ক্যানসার নিয়েই কাজ চালিয়ে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক

আবারও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে বেশি বয়স্ক বিচারক রাথ ব্যাডের গিন্সবার্গ। শুক্রবার জানিয়েছেন, তার কেমোথেরাপি চললেও বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের নয় সদস্যের বিচারক বেঞ্চের চার লিবারেল বিচারকের একজন হলেন গিন্সবার্গ। মরণঘাতী রোগ শরীরে বয়ে বেড়ালেও এতটুকু মনোবল কমেনি তার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পারি পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাব। আমি পুরোদমে কাজ চালিয়ে যেতে পারব।”

বিবৃতিতে ৮৭ বছর বয়সী এই নারী বিচারক জানান, এবার তার লিভারের ক্যানসার ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ইমিউনোথেরাপি নিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তবে কেমোথেরাপির ‘ইতিবাচক ফল’ পাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।

গিন্সবার্গের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বর্ষীয়ান এই বিচারক সরে দাঁড়ালে তার জায়গায় এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আরও রক্ষণশীল গতিধারায় পরিচালিত হয়। এতে দেশটির বিচার ব্যবস্থা ও সামাজিক নীতির ব্যাপারগুলোতে কয়েক দশকের একটা প্রভাব পড়তে পারে

নিয়মানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ মৃত্যুর আগ পর্যন্তই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে চাইলে ইচ্ছাকৃতভাবে অবসরে যেতে পারেন। তেমন ইচ্ছা নেই গিন্সবার্গের। বয়স অনেক হলেও নিজের আসনটি ধরে রেখেছেন। তিনি এটাও জানেন, যে তার সরে যাওয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার গতি প্রকৃতিই বদলে যেতে পারে।

কর্কট রোগের সঙ্গে যেন গিন্সবার্গের মিতালি। গত দুই দশকে কোলন ক্যানসার ও ফুসফুসের ক্যানসারসহ অন্তত তিনবার প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।

গিন্সবার্গের এবারের ক্যানসার ধরা পড়ে ফেব্রুয়ারিতে। বায়োপসি রিপোর্টে দেখা যায়, তার লিভারে ক্যানসারের সংক্রমণ। এরপর মে মাসে ইমিউনোথেরাপি নেন। তাতে ভালো না হওয়ায় বর্তমানে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন তিনি।

এতে উপকৃত হচ্ছেন বলেও জানালেন গিন্সবার্গ, “আমার সবশেষ ৭ জুলাইয়ের স্ক্যান রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে এবং নতুন সংক্রমণও ধরা পড়েনি।”