মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে পারিবারিক বিরোধে শুক্রবার রাতে স্বামী রুবেল মিয়া (৩০) স্ত্রী পারভীন বেগমের (২৫) গালে চড় মারেন। এ ঘটনায় স্ত্রী বাবার বাড়ি গিয়ে অভিযোগ করায় রাতে বাড়ি ফেরার পথে শ্বশুর শেরালি মিয়ার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে জামাতা রুবেলের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করা হয়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এসে রুবেলের বোনসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী রুবেল মিয়াকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রাতে রুবেলের বোন শিল্পী বেগম (৩৫) বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করে।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধে শুক্রবার সন্ধ্যায় রুবেল মিয়া তার স্ত্রী পারভীন বেগমের গালে চড় মারে। এতে লাঞ্ছিত স্ত্রী পারভীন তান স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি গিয়ে অভিযোগ করে। এরই জের ধরে রাত সাড়ে ৮টায় জামাতা রুবেল মিয়া বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় শ্বশুর শেরালি মিয়া মিয়ার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে চালানো হয়। এসময় তাকে বাঁচাতে এসে রুবেলের মেয়ে রুনা বেগম (১৬), বড় বোন শিল্পী বেগম (৩৫), প্রতিবেশী আজাদ মিয়া (২২) আহত হন।
ঘটনার পর এলাকাবাসী আহতাবস্থায় রুবেল মিয়াকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রুবেল মিয়ার মাথা, হাত ও পা-সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।
অভিযোগকারী রুবেল মিয়ার বড় বোন শিল্পী বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক বিরোধ থাকতে পারে। আর স্বামী স্ত্রীর গায়ে হাত তুললেও এর সামাজিক বিচার করা যায়। তা না করে ভাইয়ের শ্বশুর পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ওত পেতে থেকে এভাবে হামালা চালিয়েছেন। তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত শ্বশুর শেরালী মিয়ার সাথে যোগোযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পাত্রখোলা চা বাগান ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।