করোনা: শ্রমবাজার সংকটে কর্মসংস্থান কমিশন গঠনসহ ৩ সুপারিশ

করোনা পরিস্থিতিতে সংকটে পড়া শ্রমবাজার নিয়ে তিনটি সুপারিশ করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান।

প্রথমটি হলো একটি কর্মসংস্থান কমিশন গঠন। ওই কমিশন বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। অপর দুটি হলো- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ঢেলে সাজানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত কর্মসংস্থান নিয়ে এক ওয়েবিনারে সেলিম রায়হান এই তিনটি সুপারিশ করেন। ওই ওয়েবিনারে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা অংশ নেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সস্টিউিটটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনুসরের মতে, কভিড পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্নয়ের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বেশির লোক তার কাজ ফিরে পাবে।

সানেমের চেয়ারম্যান্য বজলুল হক খন্দকার শ্রমবাজারের সঠিক তথ্য উপাত্তের জোর দেন। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন।

ব্র্যাক ইন্সস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিনের মতে, আগামী তিন মাস সবচেয়ে বেশি গুরত্বপূর্ণ। অর্থনীতি খুলতে শুরু করছে, শ্রমবাজার কি ধরনের আচরণ করে- সেটাই দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পওতিয়ানেন বলেন, করোনাসংকটে শ্রমবাজার উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি- সব প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত। গ্রাম এলাকায় অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহাংতা দিলে বেশি কর্মসংস্থান হবে।

ওয়েবিনারে বক্তারা আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের উপর বাড়তি চাপ সৃস্টি করছে। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বা আংশিক খোলায় অনেক লোক বেকার হয়েছেন। আবার বহু লোক গ্রামে চলে গেছেন, ফলে গ্রামীণ শ্রমবাজারেও তা প্রভাব ফেলছে। শ্রমবাজারের চলমান সংকট মোকাবিলার বিষয়টি সরকারের প্রণোদনার অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের উপর নির্ভর করছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়েমা হক।