আনন্দময় হোক প্রতিটি মুহূর্ত

দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হতে চায় এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু প্রতিটি মানুুষকে আনন্দ-কষ্টের মধ্য দিয়েই যেতে হয়। তবে কষ্টের মধ্যেও আনন্দ খুঁজে নেওয়া এবং নিজের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ্য করে তোলা সফলদের বৈশিষ্ট্য। লিখেছেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আলী জাফর সাদেক

 নিজেকে ভালোবাসতে শেখো। জীবনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে হলে নিজেকে ভালোবাসার বিকল্প নেই। নিজেকে ভালোবাসলেই তুমি এমন কাজ করবে না, যা তোমার জন্য ক্ষতিকর। এটি তোমাকে স্বাস্থ্য, পড়াশোনা ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতি যতœবান হতে শেখাবে।

 জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যায়ন করো। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে কে কদিন বাঁচবে, কেউ জানে না। তাই জীবনকে উপভোগ করতে হলে অলস সময় কাটানো চলবে না। যে সময়টি চলে যাচ্ছে, তা আর ফিরে আসবে না। তাই এমনভাবে সময়কে কাজে লাগাও, যাতে পরে আফসোস করতে না হয়।

 আনন্দ-কষ্ট দুটোই আপেক্ষিক। তুমি চাইলেই আনন্দকে কষ্টে এবং কষ্টকে আনন্দে পরিণত করতে পারো। তাই কখনো কষ্টে পতিত হলে হতাশ হওয়া যাবে না। মনে রাখবে, প্রতিটি মানুষই জীবনে কষ্টের দিন কাটায়। কেউ-ই শতভাগ সুখী নয় যদিও তাদের দুঃখগুলো সব সময় আমাদের নজরে পড়ে না।

 আত্মতৃপ্তি আনন্দে থাকার মূলমন্ত্র। নিজের যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো। তোমার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বরং যে তোমার চেয়ে খারাপ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে, তার দিকে তাকিয়ে সন্তুষ্ট হও।

 ভালো থাকার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হাসি। হিংসা, শত্রুতা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ তুমি জয় করে নিতে পারো হাসির মাধ্যমে। হাসি কখনো দুর্বলতার পরিচায়ক নয়। বরং তা তোমার ব্যক্তিত্বকে সহনশীল ও মহানুভব হিসেবে মানুষের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দেয়।

 পরিবারকে বেশি সময় দাও। পৃথিবীতে তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু তোমার পরিবার। মা-বাবা, ভাই-বোনই তোমার অধিক কল্যাণপ্রত্যাশী। তাই বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় দিতে গিয়ে পরিবারকে এড়িয়ে চলো না। বিপদে-আপদে তারাই সবার আগে তোমার পাশে থাকবে।

 ভালো বন্ধু নির্বাচন করো। বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করো। জীবনে বিশ^স্ত বন্ধুর খুবই প্রয়োজন। তাই সব সময় বন্ধুর জন্য কল্যাণ কামনা করো। বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে তাকে অভিবাদন জানাও। তার ব্যর্থতায় দিনে সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকো। সেও তোমার প্রয়োজনে পাশে থাকবে।

 মানুষের মুখে হাসি ফোটাও। মানুষের কল্যাণে কাজ করো। নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলো সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন। এতে তাদের মুখে হাসি ফোটার পাশাপাশি তোমার মনও ভরে উঠবে আনন্দে। মনে রাখবে, পৃথিবীতে একা একা ভালো থাকা যায় না।

 ঘৃণা, হিংসা ও অহংকারকে না বলো। এগুলোই অশান্তি সৃষ্টির মূল কারণ । তাই তোমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আনন্দময় করে তুলতে চাইলে এই তিন মন্দ কাজ থেকে বেরিয়ে আসো। ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও বিনয়ের ভেলায় চড়ে পৌঁছে যাও সুখ ও আনন্দের ভুবনে।