যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। গতকাল রবিবারের এ নির্বাচনে মূলত দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগতরা অংশ নিচ্ছেন। তারা প্রধানত আসাদের নিজ দল বাথ পার্টির সদস্য কিংবা দলটির রাজনৈতিক মিত্র। আর ভোটগ্রহণও অনুষ্ঠিত হচ্ছে শুধু আসাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে। এর বাইরে ইদলিবসহ অন্য অংশগুলোতে কোনো নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনকে ঘিরে আসাদপন্থিদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিলেও, বিরোধীরা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছেন না।
২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এটি দেশটিতে তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজারেও বেশি প্রার্থী। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা একাধিক ব্যবসায়ীও রয়েছেন। সাত হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। গত এপ্রিলে হওয়ার কথা ছিল নির্বাচন। কিন্তু দুই দফায় নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে গতকাল ভোটগ্রহণ হয়। এরমধ্যে একবার পেছানোর কারণ ছিল প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সিরিয়ার ক্ষমতায় আছেন রাশিয়া ও ইরান সমর্থিত বাশার আল আসাদ। এবারের নির্বাচনেও দৃশ্যত তার দল নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে। অনেকটা একদলীয় নির্বাচন হওয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকট আসাদের বিজয় নিশ্চিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের নির্বাচনে বাথ পার্টি ও দলটির মিত্ররা ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে ২০০টি আসনে বিজয়ী হয়। বাকি আসনগুলোতে জয় পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হওয়ায় এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। চ্যাথাম হাউজের উপদেষ্টা জাকি মেইচে আলজাজিরাকে বলেন, ‘সিরিয়ার অধিকাংশ মানুষই এটা বিশ্বাস করেন যে, এই নির্বাচন শুধু শাসনকে টিকিয়ে রাখার জন্য। সিরিয়ার একজন বৈধ শাসক দরকার তাই এই নির্বাচন। মানুষ জানে যে, অধিকাংশ প্রার্থীই বাথ পার্টি মনোনীত। তাদের মনোনয়ন ছাড়া কেউ নির্বাচনে দাঁড়ানোর মতো যোগ্য হয়ে উঠতে পারে না প্রাতিষ্ঠানিকভাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক কারাম শাহর মতে, আসাদ সরকার তার আস্থাভাজনদের আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে নির্বাচনকে ব্যবহার করেন। গত চার বছরে যেসব যুদ্ধবাজ নেতা ও মিলিশিয়া নেতারা আসাদের পক্ষে লড়াই করেছে তারাই এখন অধিক সংখ্যক আসন নিতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক।