করোনায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ব্রাজিলের আদিবাসী প্রধান

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছেন ব্রাজিলের অন্যতম আদিবাসী প্রধান আরিতানা ইয়াওয়ালাপিতি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আমাজন জঙ্গল অঞ্চলে থাকা তার সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে।

জিনগু আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রধান আরিতানা বয়স প্রায় ৭০ বছর। বর্তমানে অবস্থা সংকটজনক বলে মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তাপি। আমাজন ঘেঁষা ব্রাজিলের জিনগু নদীর তীরে এদের বসবাস।

তাপি জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন আরিতানা। পরে করোনাভাইরাস টেস্ট করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রথমে তাকে মধ্য ব্রাজিলের মাতোগ্রোসো রাজ্যের কানারাতানার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী রাজ্য গোইয়াস রাজ্যের রাজধানী গোইয়ানার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আরিতানাকে।

বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মোবাইল ফোনে এএফপিকে তাপি বলেন, “তার অবস্থা এখনো সংকটজনক। চিকিৎসকেরা এখন তাকে গোইয়ানার হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে।”

আমাজন বনাঞ্চল রক্ষা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে অন্যতম পরিচিত মুখ আরিতানা। অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছেন তিনি।

আগে অনেক রোগভোগের মতো করোনাভাইরাসের মহামারিও আমাজন জঙ্গলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে।

আর ব্রাজিল তো বর্তমানে করোনাভাইরাসের অন্যতম হটস্পট। আক্রান্ত ও মৃত্যুর বৈশ্বিক তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে আছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটি। আক্রান্ত ২১ লাখ ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার।

ব্রাজিলিয়ান আবিদাসী জনগোষ্ঠী সংগঠন এপিআইবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি আদিবাসী কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫৪৪ জনের। এর মধ্যে গত মাসে পাওলিনহো পায়াকান নামে এক আদিবাসী প্রধানের মৃত্যু হয়।

আরিতানার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফরাসি পরিবেশবাদী গ্রুপ প্লানেট আমাজনের সভাপতি গ্রেট-পিটার ব্রুখ, “আমরা আদিবাসী প্রধান আরিতানাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি জিনগু অঞ্চলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”

“গত ৫০ বছর ধরে যারা বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন করোনা সংক্রমণে তারা সবাই হুমকিতে রয়েছেন।”