খ্যাতনামা লেখক চেতন ভগতের বিস্ফোরক মন্তব্যে চমকে গেছেন সবাই। সম্প্রতি তিনি বললেন, “জনসমক্ষে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছিল। প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া আমার এমন অবস্থা করেছিলেন যে প্রায় আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।”
বলিউডের একাধিক ছবির নেপথ্যে চেতনের মস্তিষ্কপ্রসূত গল্প। কিন্তু ক্রেডিটে বেলায় অন্য কারো নাম! এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন লেখক। আলোচনায় উঠে এসেছে রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ‘থ্রি ইডিয়টস’।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই বলিউডে স্বজনপোষণ কিংবা প্রতিপত্তিশালীদের ক্ষমতার দাপট, হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক বিতর্ক জন্ম নিয়েছে। একের পর এক বিতর্ক প্রকাশ্যে আসছে! এবার তার সূত্র ধরেই বিতর্কের আরও এক দিক দেখালেন লেখক চেতন ভগত।
চেতনের লেখা গল্প থেকেই সুশান্তের প্রথম হিন্দি ছবি ‘কাই পো চে’, আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টস’, অর্জুন কাপুরের ‘টু স্টেটস’ বা ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’-এর মতো সিনেমা তৈরি হয়েছে। তবে তার প্রতি সৌজন্য স্বীকার তো করা হয়ইনি, বরং তাকে নাকি অপমানিত হতে হয়েছিল বিখ্যাত প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়ার কাছে। সম্প্রতি টুইটে এমন দাবি করেন চেতন।
আমির খান, আর মাধবন ও শরমন যোশি অভিনীত ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মুক্তির সময় তাকে কৃতিত্ব দেওয়া নিয়ে একাধিক সমস্যার সৃষ্টি করেছিলেন বিধু বিনোদ। সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর ‘সেরা গল্পের’ জন্য বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ডও পান এই প্রযোজক। এ ঘটনায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, হেনস্তার জেরে প্রায় আত্মহত্যা করার মতো অবস্থা হয়েছিল চেতনের!
চেতনের ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’-এর অবলম্বনেই ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিনেম্যাটিক কাহিনি লেখা হয়েছিল। আবার চেতনের লেখনী অবলম্বনে তৈরি এটিই প্রথম বলিউড ছবি।
সম্প্রতি সুশান্তের শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’র কথা উল্লেখ করে চেতন টুইটে লেখেন, “সুশান্তের শেষ ছবি চলতি সপ্তাহেই মুক্তি পাচ্ছে। আমি তথাকথিত জনপ্রিয় ক্রিটিকদের বলতে চাই, কোনো নোংরা ট্রিক করবেন না। উল্টাপাল্টা লিখবেন না। বেশি স্মার্ট হওয়ার দরকার নেই। অনেক জীবন আপনারা নষ্ট করেছেন। এবার থামুন! আমরা সিনেমাটি দেখবই।”
চেতনের এই টুইট চোখে পড়ার পরই বিধু বিনোদ চোপড়ার স্ত্রী তথা খ্যাতনামা সিনে সমালোচক ও সঞ্চালিকা অনুপমা চোপড়া ময়দানে নেমে পড়েন। চেতনের উদ্দেশে লেখেন, “যতবার আপনি এ সব নিয়ে ভাববেন, আলোচনার স্তরটা আরও নেমে যাবে!”
অনুপমাকে জবাব দিতেও ছাড়লেন না চেতন! সরাসরি বিধু বিনোদ চোপড়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, “যখন আপনার স্বামী জনসমক্ষে আমাকে অপমান করতেন, নির্লজ্জের মতো সবকটা পুরস্কার নিয়ে নিতেন, আমার গল্পের জন্য আমাকে এতটুকু কৃতিত্ব না দিয়ে আমাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছিলেন আর আপনি সেসব মুখ বুজে দেখতেন, তখন কোথায় ছিলেন আপনি?”
‘থ্রি ইডিয়টস’ নিয়ে এই বিতর্ক শুরু থেকেই ছিল। অনেকটা বাধ্য হয়েই শেষ ক্রেডিটে চেতনের নাম দেওয়া হয়। সেই বিষয়টি আবার তাজা করলেন তিনি। এতে উঠে এলো বলিউডের অন্ধকার আরেকটি দিক।