যৌতুকের দাবিতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে স্বামীর দে ্ওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ জোৎস্না বেগম মৃত্যুর সঙ্গে আট দিন লড়ে হেরে গেলেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
তার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নে ঘোড়াদাহ গ্রামে। ঘটনার পর থেকে জোৎস্নার স্বামী রাশেদ মোল্লা ও তার ভাই পলাতক রয়েছেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল শেখ জানান, বেলা ১১টার সময় জোৎস্না মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই বাবার বাড়ি চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের খলিল মন্ডল হাট নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার নামাজের জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
জোৎসা বেগমের ভাই জলিল বলেন, আমরা গরিব বলে যেনু ন্যায় বিচার থেকে বঞ্ছিত না হই। তিনি ঘাতক (জোৎস্নার) স্বামীর সর্বোচ্চ বিচার চান।
তিনি বলেন, বড় আশা নিয়ে ধারদেনা করে জোৎস্নাকে কৈজুরীতে বিয়ে দেই বছর খানেক আগে। বিয়ের ছয় মাস পরে স্বামী রাশেদের সাথে বড় আকারে ঝগড়া লাগলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলমিশ করে দেন। তারপরেও মাঝেমধ্যে টাকার জন্য জোৎস্নাকে নির্যাতন করতো ওরা।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, গত ১৬ জুলাই পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবি নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে জোৎস্নার স্বামী রাশেদ মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা তার গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জোৎস্নার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় জোৎস্নার ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে থানায় মামালা দায়ের করেছেন। আমরা অপরাধীকে ধরার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।