‘এমাজউদ্দীন আহমদ নিবেদিত জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী’

সদ্যপ্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদকে ‘নিবেদিত জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে  বিএনপি আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায়। 

শুক্রবার বিকালে আয়োজিত এ ভার্চুয়াল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

এতে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহুমদ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, শত নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হাই শিকদার।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ আমাদের মাঝে নেই, আর ফিরেও আসবেন না। কিন্তু তার কাজ আমাদের মধ্যে রয়ে গেল। তার চিন্তা, তার বিশ্বাস, তার কাজ আমাদেরকে আরো শক্তিশালী করবে, সাহস যোগাবে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের একজন দৃঢ় প্রবক্তা, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের একজন অতন্দ্র প্রহরী, গণতন্ত্রের একজন সাহসী বলিষ্ঠ সংগ্রামী যোদ্ধা প্রফেসর এমাজউদ্দীন আমাদের প্রেরণা যুগিয়েছেন এবং যোগাবেন। তিনি আমাদের সাহস যোগাবেন লড়াই করতে, সংগ্রাম করতে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তার যে রাষ্ট্রচিন্তা ছিল, সেটা ছিল দেশ, সমাজ, জাতি, রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। এর সমন্বয়ই তার চিন্তা-চেতনা। এগুলোকে সমন্বয় করে তিনি তার বইগুলো রচনা করেছেন, পত্র-পত্রিকায় অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন।

এমাজউদ্দীন আহমেদকে ‘নিবেদিত জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে  উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এমাজউদ্দীন সাহেব গত ১৩ বছর মনের মধ্যে অনেক দুঃখ নিয়ে বেঁচে ছিলেন। গণতন্ত্রের প্রতি তার একটা কমিটমেন্ট ছিল। সেই গণতন্ত্র, ব্রেকডাউন অব ডেমোক্রেসির জন্য মিলিটারি ইন্টারভেনসনের দরকার নেই, রাস্তায় কোনো ট্যাংক নামানোর দরকার নেই, কোনো গোলাবারুদের দরকার নেই, কোনো মার্শাল ’ল জারি করার দরকার নেই। এখন ব্যালট বাক্স ব্যবহার করে, ভোটকে ব্যবহার করে, গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে কর্তৃত্ববাদী সরকার, স্বৈরাচারী সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর। এই যে গণতন্ত্রের মৃত্যু হচ্ছে ধীরে ধীরে, তিনি মনের মধ্যে এই দুঃখটা নিয়ে চলে গেছেন বলে আমি মনে করি।