ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক নিয়ে ধোঁয়াশা

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণ নিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য আশা দেখলেও ইইউ বলছে, তেমন কোনো সম্ভাবনাই তারা দেখছে না। গত বৃহস্পতিবার ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরোধ দেখা দেওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ব্রেক্সিট চুক্তির ভবিষ্যৎই।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাজ্য জানুয়ারিতে ইইউ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর এ বছরের শেষ নাগাদই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ঠিক নেওয়ার কথা রয়েছে দুইপক্ষের। কিন্তু ইইউ এবং যুক্তরাজ্য দুই-ই একে অপরের বিরুদ্ধে আপস না করার অভিযোগ করতে থাকায় বাণিজ্য চুক্তিসহ ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রশ্নে আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ দফা আলোচনায় দুইপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার আলোচনার শেষে ইইউর প্রধান মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে এমন বোঝাপড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সহযোগিতার প্রশ্নে অগ্রগতি হলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। অথচ ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে সীমান্তে শুল্ক ও অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে ব্রিটেন ও ইইউর মধ্যে আলোচনার গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুইপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু বার্নিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন যে, ইইউ গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্রের চেষ্টা করলেও ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্যের প্রশ্নে নিজস্ব অবস্থানে অটল রয়েছে। বিশেষ করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে দুইপক্ষের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্রিটেন অত্যন্ত অনমনীয় অবস্থান আঁকড়ে ধরে রয়েছে। ব্রিটেনের জলসীমার মধ্যে ইইউ জেলেদের মাছ ধরার অধিকারের প্রশ্নেও বরিস জনসনের সরকার নিজস্ব অবস্থান থেকে নড়তে প্রস্তুত নয়।

তবে মিশেল বার্নিয়ে এমন নেতিবাচক পরিস্থিতি তুলে ধরলেও ব্রিটেনের মধ্যস্থতাকারী ডেভিড ফ্রস্ট এখনো হাল ছাড়তে প্রস্তুত নন। তার মতে, বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নে মতপার্থক্য সত্ত্বেও একেবারে শেষ মুহূর্ত অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে দুইপক্ষের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে। তাই ততদিন পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের ঐক্যে চিড় ধরার আশঙ্কাও দেখা যাচ্ছে। তার ওপর করোনা সংকটের ফলে বিপর্যস্ত অর্থনীতির সমস্যা তো রয়েছেই। এই অবস্থায় ২০২১ সাল থেকে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যের পথে বাধা সৃষ্টি হলে ব্রিটেন বাড়তি চাপের মুখে পড়বে, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।