ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সদ্য প্রয়াত সাবেক ভিসি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ শুধু গণতন্ত্রের পক্ষে লিখেই ক্ষান্ত হননি; বরং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনে তার সংক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিএনপির অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজে এমাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, শত নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব কবি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।
স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, গণতন্ত্রের সাহসী যোদ্ধা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ যুগে যুগে গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহস জোগাবে, পথ দেখাবে। শেষ জীবনে তার একটাই চাওয়া ছিল সেটা হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র্র প্রতিষ্ঠা করা।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাবি ভিসি থাকাবস্থায় শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষ দেখতেন না। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেন। এখনকার ভিসিরা পক্ষ-বিপক্ষ দেখছেন। সমালোচনার মধ্যেও পদ আঁকড়ে থাকছেন। কিন্তু এমাজউদ্দীন আহমদ পদ আঁকড়ে থাকেননি।
তিনি বলেন, লেখকদের অনেকেই শুধু লিখেই তাদের দায় শেষ করেন। কিন্তু এমাজউদ্দীন আহমদ লিখেই ক্ষান্ত হননি; বরং বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ সর্বশেষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কর্তৃক দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অধ্যাপক এমাজউদ্দীনের অংশ নেওয়ার কথা স্মরণ করে তার নামে একটি ‘জাতীয় স্মৃতি পরিষদ’ গঠন এবং তার লেখা গ্রন্থ জাতীয়তাবাদী দলের অনুসারীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন ড. মোশাররফ।
মওদুদ আহমদ বলেন, এমাজউদ্দীন আহমদ পজিটিভ থিঙ্কার ছিলেন। সব সময় তিনি আশবাদী ছিলেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হলেও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সফল না হওয়ায় তিনি দুঃখ নিয়ে বেঁচেছিলেন। বিএনপির সব সংকটকালে বিএনপির পাশে ছিলেন। মঈন খান বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল বিশ^াস ছিলেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। সমাজ সচেতনতার অংশ হিসেবে তিনি শত নাগরিক কমিটি গঠন করেছিলেন। দুঃখজনক বিষয় তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা হয়েছিল। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা ৫০-এর অধিক।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন তার প্রতিফলন রয়েছে অধ্যাপক এমাজউদ্দীনের লেখা বইগুলোতে। তাদের লেখা বইগুলো প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে পাঠাগার রয়েছে, সেখানে তার লেখা বইগুলো সংগ্রহ করে রাখতে হবে। যাতে দলের নেতাকর্মীরা তার লেখা বই পড়ে গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হতে পারে।