সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিকদের শাস্তি চাইলেন বেরোবির নবীন শিক্ষকরা

সংবাদ প্রকাশ না করায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষদের সংগঠন 'নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ' কয়েকজন সাংবাদিকের শাস্তি দাবি করেছেন।   

শুক্রবার রাতে তারা চার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক বরাবর অনুরোধ জানান। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হলেও সাংবাদিকরা কেন্দ্রীয় অফিসে সংবাদ পাঠায়নি। 

নবীন এ শিক্ষকরা বিবৃতিতে ওই চার সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, এরা সব সংবাদ কেন্দ্রীয় অফিসকে অবহিত করে না এবং এদের কাছ থেকে কোনো গঠনমূলক রিপোর্ট পাওয়া যায় না। বরং এরা এই দায়িত্বের অপব্যবহার করছে। 

তারা বিবৃতিতে ওই চার প্রতিনিধিকে অব্যাহতি দিতে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

তাদের এই বিবৃতির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

তারা মনে করছেন, এতে সাংবাদিকদের সংবাদ লেখায় হস্তক্ষেপ করেছে শিক্ষকদের এই সংগঠনটি। 

শুক্রবার নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক সুমাইয়া তাহসিন হামিদা এবং সদস্যসচিব মো. খালিদ হাসান রিয়েল এ বিবৃতি দেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বেরোবি সাংবাদিক সমিতি। 

এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আপনাদের জানা উচিত সাংবাদিকতা কারো দ্বারা নির্দেশিত পেশা নয়। সাংবাদিকতা স্বাধীন, তথ্যনির্ভর ও নিরপেক্ষ পেশা। একজন সাংবাদিক কোনো সংবাদ কাভার করবে, কোনটা করবে না, কখন, কীভাবে অফিসকে অবহিত করবেন তা একান্তই ওই সাংবাদিকের পেশাগত স্কেল দ্বারা নির্ধারিত হয়। আবার একটা সংবাদ গণমাধ্যম অফিসে পাঠানোর পর তা প্রকাশিত হবে কি না এবং কীভাবে প্রকাশিত হবে তা নির্ভর করে ওই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সংবাদ ব্যবস্থাপনার উপর। আপনারা যে অভিযোগ করেছেন তাতে বেরোবিসাস মনে করে আপনারা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন না বরং সংবিধানকে অস্বীকার করতে চান। কারণ সংবিধানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।