স্বর্গ থেকে পতন

কোনো খেলোয়াড়ই সব সময় ফর্মের চূড়ায় থাকতে পারেন না। কখনো না কখনো বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে বা ফর্ম হারিয়ে তাকে পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে যেতেই হয়। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এই সরে যাওয়ার গতিটা হয় ধীর, স্বাভাবিক মাত্রায়। আবার কোনো খেলোয়াড় এমনভাবে হুট করে হারিয়ে যান, তার পতন দেখলে অবাক-বিস্ময়ে মুখ হা না হয়ে যায় না।

ইয়াইয়া তোরে দ্বিতীয় দলেই পড়েন হয়তো। বিশ্ব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটি আজ যে অন্যতম এক পরাশক্তি, এর পেছনে ডেভিড সিলভা, সার্জিও আগুয়েরো, ভিনসেন্ট কোম্পানির পাশাপাশি তোরের নামটাও উচ্চারিত হয় একই সঙ্গে। সময়ের স্রোতে এক আগুয়েরো ছাড়া বাকি তিনজনই আস্তে আস্তে সিটি থেকে ব্রাত্য হয়েছেন। ক্লাব ছেড়েছেন ইয়াইয়া ও কোম্পানি। চলতি মৌসুমের পর ক্লাব ছাড়বেন সিলভাও।

বিস্ময় জেগেছে তোরেকে নিয়ে। যে ইয়াইয়া কয়েক বছর আগেও বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ছিলেন, গ্রিস ও চীন ঘুরে সে খেলোয়াড়ই এখন কোনো ক্লাব খুঁজে পাচ্ছেন না। শেষমেশ তার এজেন্ট নিজ থেকেই ধরনা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের চতুর্থ বিভাগের ক্লাব লেটন অরিয়েন্টের কাছে।

এজেন্টের প্রস্তাবে লেটনের কোচ রস এম্বেলটন বিশ্বাসই করতে পারেননি, ‘আমি ভেবেছিলাম ও আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছে। পরে বুঝলাম যে না, ব্যাপারটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করব আমার দল ইয়াইয়ার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’ পরে টুইটারে তোরের ছবি পোস্ট করে কোচ লিখেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে কে আছে এখন? অমন কেউ না, তিনবারের প্রিমিয়ার লিগ জয়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা আর আফকন জয়ী তারকা ইয়াইয়া তোরে। লেটন অরিয়েন্টের হয়ে এই সকালে অনুশীলন করছে সে।’

বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা ইয়াইয়া পরবর্তীতে কোথাও থিতু হতে পারেননি। গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসে ছিলেন কিছুদিন, পরে দুইপক্ষের সমঝোতায় সে চুক্তি বাতিল করা হয়। চীনের ক্লাব কিংদাও হুয়াংহাইয়ের ক্ষেত্রেও। কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল ব্রাজিলের ক্লাব বোটাফোগোতেও যেতে পারেন। ক্লাব সভাপতি নির্বাচনে জেতার শর্ত হিসেবে তাকে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, তোরেও কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে প্রস্তাব।