নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুলমাঠে পশুর হাট

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকার লোকজন ও চা-বাগান কর্তৃপক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে সিলেট শহরতলির লাক্কাতুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসছে। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আশফাক আহমদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েই এই হাট বসছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।

তবে আশফাক আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তেই এখানে হাট বসছে। আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’

এদিকে গত শুক্রবার বিকেল থেকে হাটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইজারাদারের লোকজন খুঁটি পুঁতে, রশি বেঁধে প্রায় দুই একর আয়তনের মাঠজুড়ে হাটের কাঠামো সাজাচ্ছে। ২৭ জুলাই এই হাট শুরু হবে।

গতকাল শনিবার থেকেই মাঠের আশপাশে গরু এনে জড়ো করতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় পশুর হাট নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

লাক্কাতুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়টি ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) অধীন সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা চা-বাগানের মাঝখানে অবস্থিত। এর পাশেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসতে পারেÑ এমন আগাম খবরে বাগান ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের আপত্তির কথা জানায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও চা-বাগানের শ্রমিকরা গত বুধবার প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেন। চা-বাগানের পক্ষ থেকে ১৪ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন দিয়ে বাগানের ভেতরে হাট না বসানোর দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে উপজেলা প্রশাসনেও চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এসব আপত্তি আমলে না নিয়ে সদর উপজেলা প্রশাসন বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। গত বৃহস্পতিবার রিমাদ আহমদ রুবেল নামের একজনকে পশুর হাটের জন্য মাঠটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসাতে এবং তা ইজারা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আশফাক আহমদ।

এ ব্যাপারে আশফাক আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাক্কাতুরা বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্তটি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এরপর উপজেলা প্রশাসন তা অনুমোদন করেছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্কুল-কলেজের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসছে। সিলেটে বসলে সমস্যা কী। তিনি বলেন, ‘এখানে হাট বসানোর জন্য আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। প্রয়োজন বিবেচনায় প্রশাসনই এ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।’

লাক্কাতুরা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম জহির বলেন, তাদের দাবি না মেনে এখানে হাট বসানো হচ্ছে। এতে মাঠের চারপাশে লাগানো গাছসহ মাঠের অনেক ক্ষতি হবে।

বাগানের মাঝখানে পশুর হাট না বসানোর দাবিতে চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এর আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ওই স্মারকলিপিতে তারা বলেন, বাগানের ভেতরে পশুর হাট বসানো হলে বিপুল লোক সমাগম হবে। এতে তারা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়মাঠের কোনো ক্ষতি হলে তা ইজারাদার ঠিক করে দেবেন।