দেশজুড়ে যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একের পর এক দুর্নীতি, জালিয়াতির খবর, মানুষ আস্থা হারাচ্ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর- সেখানে ব্যাতিক্রম ডা. সায়মা আফরোজ ইভা। আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের (আড়াইহাজার) নজরুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী হলেও আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো তার চলাফেরা।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পাল্টে দিয়েছেন এক নারী। তিনি হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা। এখানে যোগদানের পর ৭ মাসে ছুটি নেননি এক দিনও। এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন আপন গতিতে। অনেকটা চিরাচরিত নিয়মের বাইরেই তিনি অফিসে আসেন ঠিক ৯টায় আর বের হন বিকাল ৫টায়। যে প্রতিষ্ঠানে এক সময় ছিল গবাদি পশুর অবাধ যাতায়াত আর পুঁতিগন্ধময় পরিবেশ, সে প্রতিষ্ঠানটি তার ছোঁয়ায় এখন আস্থা অর্জন করেছে সাধারন মানুষের।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বললে তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, এক সময় এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন না তারা। এর প্রধান ২টি কারণ ছিল ডাক্তাররা সময়মত আসতেন না আর নোংরা পরিবেশ। দেয়াল জুড়ে ছিল পানের পিক, চুনের দাগ আর যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। ওয়ার্ডগুলোতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর নোংরা বেডে রোগীদের থাকাটাই ছিল যেন এক চরম অসহায়ত্ব।
তারা বলেন, পাশাপাশি হাসপাতাল জুড়ে উৎকট গন্ধ, ভাঙা নোংরা টয়লেটগুলোর কথা বলতে দিতে গিয়ে এখন গা গুলিয়ে আসে তাদের। কিন্তু গত কয়েকমাসে এখানে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় একজন প্রহরী রিকশা, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সবুজ চত্বর আর ফুলের বাগান দেখে মনে হতে পারে রাজধানীর কোনো বেসরকারী হাসপাতালের চত্বর এটি। চারদিকে সীমানা প্রাচীরে ঘেরা পরিচ্ছন্ন আর ঝকঝকে পরিবেশ।
পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা আঞ্জুমান বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, কয়েক মাস আগে ডায়রিয়ার কারণে ভর্তি হয়েছিলাম। এবার অসুস্থ হওয়ার পর এসে দেখি হাসপাতাল পাল্টে গেছে। হাসপাতাল নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে। বাথরুম পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারেও অনেক পরিবর্তন।
আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ব্যাপক পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ জানতে কথা হয় আড়াইহাজার সফর আলী কলেজের প্রভাষক ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে।
তিনি জানালেন, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে যার ভুমিকা সর্বাগ্রে তিনি হলেন ডা. সায়মা আফরোজ ইভা। গত ৭ মাসের পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই হাসপাতালটিকে পাল্টে দিয়েছেন। আড়াইহাজারের প্রায় ৩১৫টি গ্রামের সাধারণ দরিদ্র মানুষরা এখন এই হাসপাতালে স্বচ্ছন্দে চিকিৎসা নিতে আসেন।
মাসুম বলেন, ডা. ইভা স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সহধর্মীনি হলেও তিনি কখনও সেই পরিচয়টিকে তার পেশায় টেনে আনেননি। যেখানে এমপি-মন্ত্রীদের আত্মীয়দের সরকারি পেশায় নানা অনিয়ম দেখা যায়, সেখানে ডা. ইভা একেবারেই ব্যাতিক্রম।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘আমি শুধু আমার ওপর অর্পিত দ্বায়িত্বটুকুই পালন করেছি। এর বেশি কিছু না। তবে গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো চিকিৎসা সেবা পেয়ে যখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য, আমার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেন তখন মনে হয় এই পেশাটা স্বার্থক হয়েছে’।