নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘বড় সাফল্য’ দেখিয়ে কোটিপতি হয়ে গেছেন সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের তিন অধ্যাপক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ২১ জুলাই এ গবেষকদের ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দুপুরের মধ্যে কোম্পানির শেয়ার ৫৪০ শতাংশ বেড়ে যায়।
রাতকো জুকানোভিক, স্টিফেন হলগেট এবং ডোনা ডেভিস- এ তিন অধ্যাপক প্রায় দুই দশক আগে হাঁপানি ও দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য একটি ওষুধ আবিষ্কার করেছিলেন।
ইন্টারফেরন বিটা নামে ওষুধটি সাধারণ সর্দি জ্বরের চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকে।
ওষুধটি নিয়ে সিনায়ারজেন নামে একটি কোম্পানি তৈরি করেছিলেন এ তিন গবেষক। ২০০৪ সালে কোম্পানিটির শেয়ার বাজারে ছাড়া হলেও পরবর্তীতে তাদের শেয়ারের দর কমে যায়।
তবে করোনার মধ্যে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য সম্ভাব্য চিকিৎসায় ইন্টারফেরন বিটা ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা দেয়।
সিনায়ারজেনের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মার্সডেন জানান, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস বা এম্ফিজিমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ইন্টারফেরন বিটা ওষুধের ব্যবহার নিয়ে কোম্পানিটি বড় পরীক্ষা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, করোনামহামারি ছড়িয়ে পড়ায় পরে জানুয়ারিতেও আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে ভাইরাসটি প্রতিরোধে আমাদের এ ওষুধটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে একটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের সিদ্ধান্ত নেই এবং আমরা এতে সফল হয়েছি।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কোম্পানিটির এসএনজি০০১ নামের ইন্টারফেরন বিটা ওষুধের ব্যবহারের ফলে করোনা রোগীদের সেরে ওঠার সম্ভাবনা দুই থেকে তিনগুণ বেশি।
১০১ জনের মধ্যে ওষুধটি নিয়ে পরিচালিত এ পরীক্ষায় দেখা গেছে, মারাত্মক রোগের ক্ষেত্রে ৭৯ শতাংশের শ্বাসকষ্ট কমেছে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে তা কমার পরিমান উল্লেখযোগ্য।
এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত শেয়ার বাজারে সিনায়ারজেনের দাম ৩০০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ২০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে কোম্পানির পরিচালকদের ২ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ মিলিয়ন ইউরোতে।
কোম্পানির শেয়ার বাড়ায় রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছেন রাতকো জুকানোভিক, স্টিফেন হলগেট এবং ডোনা ডেভিস।