আগে বাঁচি, পরে দুর্নীতির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যের ডিজি

প্রাণঘাতী করোনা মহামারি মোকাবিলার পর দুর্নীতির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সদ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে আসা ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এই মুহূর্তে মানুষ বাঁচানোর পদক্ষেপকেই অগ্রাধিকারে রাখছেন তিনি।

সোমবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, আগে তো বাঁচি। এরপর দুর্নীতিসহ সব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দেশ এখন করোনার দুর্যোগ ও বন্যা কবলিত। এসব মোকাবিলা করাই আগামী সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একশ ভাগ না হলেও নিরানব্বই ভাগ সমাধান করতে পারব।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ‘স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির দায় সবার’ শীর্ষক বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তি সৎ না হলে আইন-কানুন দিয়ে ‘কিছু পারা যাবে না’এই কথা বোঝাতে চেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি চিকিৎসক, আপনি বিপদে পড়ে আমার কাছে এলেন। আমি যদি তার ফায়দা নেই সেটা তো বিপজ্জনক।

মহামারি মোকাবিলায় কোনো নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না কি জানতে চাইলে ডা. খুরশীদ আলম বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব না। শুরু থেকেই প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থাও বদলানোর কাজ হচ্ছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি দরকার হয় বদল আসবে, সেটা আপনাদের জানানো হবে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল নিয়ে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, এটা লুকানোর কিছু নাই, যদি আমাদের ভুল হয়ে থাকে, সেটা বলব। আর যদি এটা মেশিনারিজ ভুল হয়ে থাকে সেটাও বলব। আর কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত হয়ে থাকে তাহলে অবশ্য, অবশ্যই সেটা নিশ্চয়ই সুষ্ঠু সমাধান হবে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশে বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ কোন পর্যায়ে আছে জানতে চাইলে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে ডা. নাসিমা সুলতানাকে আহ্বান জানান মহাপরিচালক।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষা কমেছে। তবে আজকে কয়েকদিনের চেয়ে বেশি। কেস এখন কমতির দিকে। যাদের দরকার তারাই টেস্ট করছে। কেস কমার কারণে মানুষের আগ্রহও কম। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেস কম এবং নাই বললেই চলে। কাজেই কেস ওইভাবে যে পিকে আছে আমরা তা বলতে পারি না। আইইডিসিআরের সার্ভেতেও আসছে যে কেস এখন পিকে নাই। এখন কমতির দিকে।

স্বাস্থ্যখাতে আস্থা ফেরাতে একসঙ্গে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।