নিয়ম না মেনে রাজধানীর মেরাদিয়া হাট বসেছে রাস্তার দু’ধারে ফুটপাত ও গলির রাস্তা দখল করে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর রাস্তার দুপাশে এই হাট বসার প্রতিবাদ জানালেও কোনো কাজ হয়নি। তাছাড়া হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর বনশ্রী এলাকার কে ব্লক , দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া হাটে রাস্তার দুপাশে ত্রিপল আর বাঁশ দিয়ে বানানো হয়েছে গরুর হাট। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই অবস্থা। হাটে নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া ঘুরতে। শাখা সড়কেও ত্রিপল দিয়ে রাখা হচ্ছে গরু।
জানতে চাইলে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর এভাবেই এখানে হাট বসে। এখানে মূল সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্লক ও আশপাশের গতিতেও হাট বসেছে। পাশাপাশি এই হাট চলাকালীন সময়ে রাস্তা ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকে।’ সোহেল নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে মূল রাস্তার পাশে রয়েছে দুটি হাসপাতাল, সেখানে প্রতিনিয়ত রোগী আসে। এখন করোনাকালীন এই সময়ে রাস্তার ওপর হাট বসানো উচিত হয়নি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার দোকানের সামনে গরু রাখা হয়েছে। প্রায় সব দোকানের সামনে গরুর হাট বসানো হয়েছে। আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা থেকে আলিম মোল্লার এই হাটে আনা গরুর সংখ্যা ১৫টি। গরুগুলো তিনি রাখছেন হাটে কর্তৃপক্ষের করে দেওয়া ছাউনির ওপর। এই ছাউনির পাশেই ফুটপাতে নিজের মালামাল রেখে রান্না করছেন তিনি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আইছি ব্যবসা করতে, কষ্ট করতেই তো হইব। এই হানে থাকি খাই আর গরুগুলার যতœ করি। আমার এইহানে সর্বনিম্ন সত্তর হাজার থেকে তিন লাখ টাকার গরু আছে।’
লতিফ হোসেন নামে আরেক গরু ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি এই হাটে প্রতিবছর গরু নিয়ে আসি। প্রতিবারই এমন ব্যবসা কইরা ব্যবসা করি। তয় এবারে ব্যবসা তেমন হইব না। করোনার জন্য হাটে গরু আইলেও নেই কাস্টমার।’
হাটের স্বাস্থ্যবিধি মানা ও হাটের ইজারা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার ময়েন উদ্দিন মিলন দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আমি সব ব্যবসায়ীর মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছি। তাছাড়া হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ হাত ধোয়ার পানির ব্যবস্থা করেছি। তিনি আরও বলেন, এই হাট ৪৫ বছরের পুরনো হাট, এভাবেই চলছে হাট। রাস্তার দুপাশে আমাদের হাটের সীমানা ফরাজী হাসপাতাল থেকে কে ব্লক পর্যন্ত।