কুয়েতের শ্রমিক কোটায় সুখবর, আছে দুঃসংবাদও

বিদেশি শ্রমিকদের জন্য কুয়েত সরকার যে আইন করতে যাচ্ছে, তার খসড়ায় প্রবাসীদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা যেমন রাখা হয়েছে, তেমনি নতুনদের জন্য সুযোগও কমানো হয়েছে।

আরব নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসিভুক্ত ছয় দেশের কর্মী, সরকারি চুক্তিতে থাকা কর্মী এবং কূটনীতিক ও কুয়েতিদের যে আত্মীয়রা দেশটিতে কাজ করছেন তাদের চাকরি যাবে না। তবে বাংলাদেশ, ভারতের মতো অঞ্চল থেকে নতুন করে শ্রমিক নিয়োগের সংখ্যা কমানো হবে।

কুয়েতের সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের সমন্বয় করতে দেশটি এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান এবং ভিয়েতনাম থেকে কুয়েতের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে মাত্র ৫ শতাংশ শ্রমিক নিয়োগ দেয়া যাবে। সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন ভারতীয়রা ১৫ শতাংশ। শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন এবং মিশর থেকে ১০ শতাংশ। এর বাইরে অন্য দেশ থেকে তিন শতাংশের বেশি কর্মী নেয়া যাবে না।

কোটা পূরণ হওয়ার পর কোম্পানিগুলো বেশি লোক নিলে দশ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে আইনে। থাকবে বড় অঙ্কের জরিমানাও।

আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতের বর্তমান জনসংখ্যা ৪২ লাখ ৭০ হাজারের মতো। নতুন আইন পাস হলে,  এই হিসাবে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ মানুষ দেশটিতে থাকতে পারবেন। আবার কোনো কোনো হিসাবে কুয়েতের মোট জনসংখ্যা ৪৮ লাখও বলা হয়। সেটি হলে ২ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি সেখানে থাকতে পারবেন। দেশটিতে এখন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বাংলাদেশি আছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের খসড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

কমিটি থেকে বলা হয়েছে, আইন পাস হলে অতিরিক্ত কর্মীদের কুয়েত ছাড়তে হবে না। কিন্তু সংখ্যা কোটায় না আসা পর্যন্ত কোনো কোম্পানি নতুন নিয়োগ দিতে পারবে না।