ঈদকে সামনে রেখে সুন্দরবনে বন বিভাগের বাড়তি সতর্কতা

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীসহ প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বন বিভাগ।

এছাড়া সুন্দরবনের সকল কর্মকর্তা ও বন প্রহরীদের কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে সকল ধরনের জনসাধারণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কতিপয় লোকজন বনে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের অপারাধমূলক কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে থাকে। ঈদ উপলক্ষে মৌসুমী হরিণ শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এসব অপরাধী ও মৌসুমী শিকারিদের দমনে সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বন বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করার পাশাপাশি কর্মস্থল ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের রয়েছে প্রাণ-প্রকৃতির বিশাল আধার। বাংলাদেশের সমগ্র বনাঞ্চলের অর্ধেকের বেশি জায়গা বিস্তৃত হচ্ছে সুন্দরবন।

সুন্দরবনে বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়াবী হরিণ, কিং-কোবরা, বানর, গুইসাপসহ প্রায় ১০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভয়চরসহ ৩২০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস।

সুন্দরী, পশুর, গেওয়া, গরান, কাকড়া, গোলপাতাসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে এ বনে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নদী ও খালে রয়েছে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, লবণ পানির প্রজাতির কুমির, রূপালী ইলিশ, চিংড়ি, রুপচাঁদা, কোরালসহ ৪০০ প্রজাতির মাছ।