মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউপির ধলই চা বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বাগান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার সকালে ধলই চা বাগানের কারখানার সামনে সহস্রাধিক চা শ্রমিক অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন ধলই চা বাগানে গেলে বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি গৌরাঙ্গ নায়েক, সম্পাদক সেতু রায়, ইউপি সদস্য শিব নারায়ণ, সাবেক ইউপি সদস্য তুলশী মাদ্রাজী, চা শ্রমিক সন্তান ইরাজ ও নারী শ্রমিক খোদেজা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোমবার সকাল থেকে ব্যবস্থাপক ও বাগান কর্মচারীরা তাদেরকে দিয়ে ৩ গুণ চা পাতা উত্তোলন করান। কারখানার বাবু গোলাম হোসেন তাদেরকে বলেছিলেন মঙ্গলবার বিদ্যুৎ থাকবে না তাই যেন তারা অতিরিক্ত কাজ করেন। সে হিসেবে তারা এক দিনে ৩ গুণ কাজ করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ধলই চা বাগান কোম্পানির উপ-মহা ব্যবস্থাপক একটি নোটিশ টাঙিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তারা বলেন, নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, চা বাগানে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে এ অবস্থায় চা বাগানে নিরাপত্তার অভাবে ধলই চা বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাস্তবে ধলই চা বাগানে কোনো প্রকার শ্রমিক অসন্তোষ নেই।
নারী চা শ্রমিক খোদেজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা এ সময়ে তাদের সাপ্তাহিক মজুরি পাওয়ার কথা। তার আগেই কোনো বাস্তব কারণ ছাড়াই ধলই চা বাগান কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করছে। যা সম্পূর্ণ অমানবিক কাজ।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধলই চা বাগানের দুর্নীতিবাজ ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে গত ২৯ জুন এ চা বাগানে শান্তিপূর্ণভাবে চা শ্রমিকরা এক দিনের কর্মবিরতি পালন করেছিল। পরে তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক হিসেবে জাকারিয়া হাবিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
চা শ্রমিকরা ধলই চা বাগান কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থকে শান্তিপূর্ণভাবে চা বাগানে কাজ করছিলেন। এখন সোমবার কোম্পানির সিদ্ধান্তে মিথ্যে তথ্য উল্লেখ করে নোটিশ দিয়ে ধলই চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যে অজুহাতে চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয় তা শ্রম আইনের পরিপন্থী। চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের দৃষ্টি কামনা করে অবিলম্বে ধলই চা বাগান খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধলই চা বাগান কোম্পানির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, কি কারণে চা বাগান বন্ধ করা হয়েছে তা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে পারবেন না।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ধলই চা বাগানে যাতে পরিস্থিতি ভালো থাকে সে জন্য সেখানে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, চা বাগানে কোনো সমস্যা ও বা শ্রমিক অসন্তোষ হলে তাকে অবহিত করলে ভালো হতো। ধলই চা বাগান কর্তৃপক্ষ কখনও কোনো বিষয়ে তাকে অবহিত করে না। একটি নোটিশের কপি পেয়ে তিনি জানতে পারলেন শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ধলই চা বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।