গত মাস তিনেক ধরে সবজি ও মাছের দামে বাড়তি উত্তাপ ছিল, তবে গত কয়েক দিন ধরে এসব পণ্যের দাম কমছে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় ও সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজির দাম। আর সাগরে নিষেধাজ্ঞা উঠায় কমেছে মাছের দামও।
গতকাল বৃহস্পতিবার বক্সিরহাট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, ফিরিঙ্গীবাজার ঘুরে দেখা গেছে দুই মাসের অধিক সময় চড়ে থাকা প্রতি কেজি কাঁকরোল কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। প্রতি কেজি বরবটি ৫০ টাকা, যা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ১০ টাকা। ঝিঙা ৪০, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ২৫ টাকা। ঢেঁড়স কেজিতে ১৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তিত করলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ধনেপাতার দাম কমে কেজি ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচের দাম এখনো চড়া। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ এখন ১৬০ টাকা। আলুর কেজি ২৮-৩০ টাকা।
রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মো. হোসেন বলেন, এখন চারদিক থেকে সবজি আসা শুরু হয়েছে। আর অনেক আড়তদার সবজি কম দামে ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন, ফলে সরবরাহও বেড়েছে। তবে কাঁচামরিচের ক্ষেত এবার বেশি নষ্ট হয়েছে বন্যায়, তাই দামটা এখনো একটু চড়া।
এদিকে ঈদুল আজহার মৌসুমে মাছের চাহিদা বেড়েছে। বক্সিরহাট, সাবএরিয়া বাজার ও ফিরিঙ্গীবাজার ঘুরে দেখা গেছে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ইলিশ মাছের সরবরাহ বাজারে বাড়েনি। সামুদ্রিক কিছু ইলিশের দেখা মিললেও বিক্রেতারা কেজি হাঁকছেন ৬০০-৭৫০ টাকা। ৩৫০-৫০০ গ্রাম ওজনের এসব ইলিশে ক্রেতাদের আগ্রহ কম।
বক্সিরহাটের মাছ বিক্রেতা গোপাল দাশ বলেন, কোরবানির পর জমে উঠবে ইলিশের বাজার। তবে অন্যান্য মাছের দাম কমে গেছে। সাগরে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সামুদ্রিক অন্যান্য মাছে বাজার ভরপুর। বাজারে ছোট রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। বার্মা রুই বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৫০ টাকা। আকারে ছোট এমন পোপা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। বড় আকারে পোপা ২৮০ টাকা। লইট্টা মাছের দাম কমেছে কেজিতে ৬০ টাকা। বর্তমানে লইট্টা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা। রূপচাঁদা প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৫০-৮০০ টাকা। চিংড়ি ৫০০-৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও আগে দাম ছিল ৬৫০-৭০০ টাকা।