ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র অধীনে বদলে যাওয়া জাতীয় দলের মাঝমাঠে এতদিন একটা বড় শূন্যতা ছিল। বেরসিক চোট একই সঙ্গে ছিটকে দিয়েছিল মাঝমাঠের তিন বিশ্বস্ত খেলোয়াড় মাসুক মিয়া জনি, আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে। অক্টোবর-নভেম্বরে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের জন্য ঘোষিত ৩৬ ফুটবলারের তালিকায় রয়েছে তাদের নাম। ফের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে মুখিয়ে থাকলেও দীর্ঘ চোটের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা চান না কোনো ঝুঁকি নিতে। ৭ আগস্ট ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে তিনজনই অবস্থান করছেন নিজ নিজ বাসায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে তারা দলে ফেরার মিশনে ধরবেন ঢাকার গাড়ি।
মধ্যমাঠের ভরসায় পরিণত হওয়া মাসুক মিয়া জনি চোট পেয়েছিলেন গত বছর সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে ওয়ার্ম আপ করতে গিয়ে। লিগামেন্টের অপারেশন করাতে হয় তাকে। এরপর থেকে নিজ ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের জিমে কেটেছে তার বড় একটা সময়। দেশে করোনার বিস্তার শুরুর পর সিলেটে নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পুনর্বাসন চলেছে ক্লাবেই। তবে দলের সঙ্গে এক হয়ে ট্রেনিংটা তার শুরু করা হয়নি। এটাই খানিকটা ভাবাচ্ছে জনিকে, ‘অপারেশনের পর থেকে ক্লাবের ট্রেনারের নির্দেশনা মেনে রিহ্যাব করছি। তবে টিম ট্রেনিং করা হয়নি। কোনো ম্যাচ অনুশীলনও হয়নি। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না কতটা ফিট হতে পেরেছি। তারপরও আমার ওপর আস্থা আছে বলেই কোচ জাতীয় দলে ডেকেছেন। সবসময়ই চাই জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে। কিন্তু চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার আগে কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। কারণ পুরোপুরি ফিট না হয়ে খেলতে নামলে ফের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাব। ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’
ফাহাদের বাঁ পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল গত বছর ৩০ এপ্রিল এএফসি কাপে আবাহনীর হয়ে চেন্নাই এফসির বিপক্ষে ম্যাচে। এরপর তাকেও অপারেশন করাতে হয়। পুনর্বাসনের সময়টাতেই ফাহাদ নাম লেখান বসুন্ধরা কিংসে। দলটির হয়ে ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বদলি হয়ে খেলেন ৫৫ মিনিটের মতো। এরপর অবশ্য খানিকটা সমস্যা দেখা দেওয়ায় ফেডারেশন কাপের ও লিগের ম্যাচগুলো খেলেননি। গত বছর ৯ মার্চ কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলা ফাহাদ চট্টগ্রাম থেকে জানালেন তার লক্ষ্যের কথা, ‘আল্লাহর রহমতে এখন সুস্থ আছি। করোনার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার কিছুদিন আগেই ব্যাক করেছিলাম। করোনার এই সময়টায় অবশ্য বাসাতেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচ টেম্পারামেন্টে হয়তো একটু ঘাটতি আছে। সেটা অনুশীলন শুরু হলেই কেটে যাবে। এমনিতে জাতীয় দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। তবে কোচ (জেমি ডে) আমার ওপর ভরসা করেছেন বলেই ডেকেছেন। চেষ্টা করব নিজেকে প্রমাণ করে দলে ফিরতে।’
২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে জাতীয় দল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল নীলফামারীতে। সেই ম্যাচের আগের দিন ওয়ার্ম আপে সাইডলাইনের গর্তে পিছলে পড়ে লিগামেন্টে চোট পান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। সেই থেকে শুরু তার ফেরার অপেক্ষা। দীর্ঘ ১১ মাস মাঠের বাইরে থাকার পর গত মৌসুমে ফেডারেশন কাপ দিয়ে মাঠে ফিরেছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের এই মিডফিল্ডার। দলের হয়ে লিগের ছয়টি ম্যাচও খেলেছেন। সেই ম্যাচের ফুটেজ দেখে তাকে প্রাথমিক দলে ডেকেছেন জেমি ডে। মাঝখানে কেটে যাওয়া দেড় বছরে জাতীয় দলে তার জায়গাটাও নিয়ে নিয়েছেন অন্যরা। তাই বড় চ্যালেঞ্জ জিতেই মূল দলে ফিরতে হবে আবদুল্লাহকে। সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে মুখিয়ে থাকা আবদুল্লাহ সিরাজগঞ্জ থেকে ফোনে বলেন, ‘চোট থেকে ফিরতে অনেক পরিশ্রম করেছি। করোনার এই সময়ে একা একা ক্লাবে থেকেছি কেবলমাত্র জিমের সুবিধা নেওয়ার জন্য। জানি সহজেই আমি জাতীয় দলে ফিরতে পারব না। কারণ অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। তবে আমি সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। এও জানি আমাকে ১১০ ভাগ দিতে হবে ক্যাম্পে। তার জন্য প্রস্তুত আছি।’