মাদারীপুরের কালকিনির বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশগাড়ী নতুনকান্দি গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ইউপি সদস্য আকতার শিকদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ সময় তার চাচাতো ভাই কালাই শিকদারকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আকতার শিকদারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী এ হামলা চালিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের সঙ্গে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আকতার শিকদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে র্যাবের পোশাক পরে সুমনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী আকতার শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। তার চাচাতো ভাই কালাই শিকদারকে (২২) অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় বোমার বিস্ফোরণ ঘটনানো হয়।
আকতার শিকদারের বাবা মতি শিকদার বলেন, চেয়ারম্যান সুমনের নেতৃত্বে তার লোকজন র্যাবের পোশাক পরে আমাদের বাড়িতে এসে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং আমার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে।
কালাই শিকদারের বাবা মজিবর রহমান শিকদার বলেন, চেয়ারম্যান সুমন র্যাবের পোশাক পরে লোকজন নিয়ে ভোররাতে আকতারকে কুপিয়েছে এবং আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, চেয়ারম্যানসহ তার লোকজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খাসেরহাট তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন, ইউপি সদস্যকে মারধরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, কালাই শিকদারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে। আসামি ধরার জন্য সকালে র্যাব সদস্যরা গিয়েছিল। আমরা তাকে নিয়ে এসেছি। এখন জানতে পারলাম তিনি কিছুদিন আগে আদালত থেকে জামিন নিয়ে গেছেন। আমরা তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেব। আমাদের পোশাক চেয়ারম্যান বা অন্য লোকজন পরবে কেন। আমরা আসার পর সেখানে একজনকে মারধর করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।