কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আফগানিস্তানে তিন দিনের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেছে তালেবান ও সরকারিবাহিনী। শুক্রবার থেকেই এই যুদ্ধ বিরতি কার্যকর করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর।
এই যুদ্ধ বিরতির ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তালেবান ও সরকারিবাহিনীর মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ সুগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই হলে দু’দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হবে।
যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য পূর্ব আফগানিস্তানে এক গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৭ জন মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যদিও এই মামলায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
এই যুদ্ধ বিরতি ঈদুল আজহার তিন দিনের ছুটির সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখার কথা বলা হলেও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯ বছরের যুদ্ধ সময়ে এটা মাত্র তৃতীয় আনুষ্ঠানিক কোনো যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা।
সরকারিবাহিনী ও তালেবানবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত আফগানিস্তানের জনগণ। জেমারাই সেদিক্কি নামে ২৬ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষক এএফপিকে বলেন, “এটা শান্তি আলোচনার জন্য ঐতিহাসিক একটি সুযোগ। এই সুযোগ নষ্ট করা কারও জন্য উচিত হবে না।”
“আমি এই যুদ্ধের মধ্যে বড় হয়েছি। যথেষ্ট হয়েছে। এখন আফগানিস্তানে শাস্তি স্থায়ী করার সময়।”
আফগানিস্তান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও তালিবান উভয় পক্ষ থেকে ঈদের পর শান্তি আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে জড়িত উভয় পক্ষকে যুদ্ধ বিরতি আরও দীর্ঘ করার জন্য সব মহল থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে ‘আন্তঃআফগান’ আলোচনা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু কাবুলে রাজনৈতিক লড়াই এবং বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া দেরি হওয়ায় আলোচনা শুরু বিলম্ব হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তান সরকার এরই মধ্যে ৫ হাজার তালেবান যোদ্ধাকে মুক্তি দিয়েছে। বিনিময়ে তালেবান গোষ্ঠী সরকারি বাহিনীর ১ হাজার সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে।
এদিকে সরকারিবাহিনী ও তালেবানদের যুদ্ধ বিরতি আরও বাড়ানোর জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ।