টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে পানির দরে পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার ঈদুল আজহায় মির্জাপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার গরু ও খাসি কোরবানি করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
এই পশু কোরবানির চামড়া বিক্রি নিয়ে তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজি। বিভিন্ন এলাকার মৌসুমী চামড়ার ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কিনে মির্জাপুর উপজেলা সদর, পাকুল্যা, জামুর্কি, কুরনী, দেওহাটা, গোড়াই, হাটুভাঙ্গা, বাঁশতৈল, তক্তারচালা এবং আজগানা এলাকায় এনে মহাজন এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু মহাজনদের দেওয়া চামড়ার দাম একেবারে পানির দর হওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা।
এদিকে কোরবানি গরু খাসি কোরবানি করা মুসল্লিরা চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে অবাক হয়েছেন। তারা বলছেন অন্য সময়ের সাথে বর্তমান চমড়ার বাজার অনেক ফারাক।
উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামের আবু আহমেদ জানান, তিনি তার কোরবানি দেওয়া গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ৩০০ টাকায়। এই চামড়ার দাম অন্য সময় কমপক্ষে দুই হাজর টাকা হতো।
উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চরবিলাসা গ্রামের আবুল হোসেন গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৪০০ টাকা। তাও আবার দরদাম করে।
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ফতেপুর গ্রামের গবিন্দ সরকার (৪৫), মামুদপুর গ্রামের ঝড়ুচন্দ্র দাস (৪০) এবং মির্জাপুর বাজারের গোপাল মনিদাস বলেন, ‘কিছুদিন পূর্বেও একটি গরুর চামড়া ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হত। এ বছর মাহাজনদের বেধে দেওয়া রেটের কারনে তা হচ্ছে না। এ বছর বড় সাইজের একটি গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাজারি ও ছোট সাইজের একটি গরুর চামড়া ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ২০-৩০ টাকায় কিনেছেন।
গ্রাম থেকে চামড়া কিনে শহরে নিয়ে আসতে চামড়া প্রতি যাতায়াত খরচ আরও ৫০-৬০ টাকা বেশি পড়েছে। যে চামড়ার খরচ পড়েছে ৪৭০ টাকা, মহাজন ও ট্যানারি মালিকরা এসে সেই চামড়ার দাম করছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।’
তারা বলেন, ‘লাভের আশায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা এবং চড়া সুদে টাকা এনে চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা তাদের মূলধনও কমে যাচ্ছে।