ব্রাজিলের অতি ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সমর্থকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
বলসোনারোর এই সমর্থকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের অভিযোগ, বিচারকদের বিরুদ্ধে তারা দুর্নাম ও ভুয়া নিউজ রটাচ্ছে।
তবে ফেসবুক আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে না বলে মনে হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, বলসোনারোর সমর্থকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়াটা বাক্স্বাধীনতা বিরোধী হবে। এ ব্যাপারে দেওয়া আদালতের নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
কংগ্রেস ও সর্বোচ্চ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সামরিক ক্যু’র জন্য ব্রাজিলে এরই মধ্যে ফেসবুক একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ ছাড়া আরও অন্যান্য বিতর্কিত কারণে বলসোনারোর ১২ জন সহযোগীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও আরও ১৬ জনের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধের জন্য মে মাসে নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক আলেক্সজান্দ্রে দে মোরাইস।
গত ২৫ জুলাই আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই দুই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রাথমিকভাবে অ্যাকাউন্টগুলো যাতে ব্রাজিলের ভিজিটররা না দেখতে পারেন শুধু সে ব্যবস্থা করে তারা।
কিন্তু এতে আদালতের নির্দেশনা কাজে আসছিল না। ফলোয়ারদের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে অ্যাকাউন্টগুলোর কার্যক্রম ঠিকই পরিচালিত হচ্ছিল।
এরপর গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক-টুইটারকে অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্ব জুড়েই বন্ধের নির্দেশনা দেন বিচারক মোরাইস। কিন্তু এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় ফেসবুককে ১৯ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার) জরিমানা করেছে আদালত। সেই সঙ্গে ফেসবুকের ব্রাজিলিয়ান প্রধান নির্বাহী কনরাডো লেস্টারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু আদালতের এই নির্দেশনার তীব্র বিরোধিতা করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ- “নতুন নির্দেশনা চরম পর্যায়ের। এটা ব্রাজিলের আইনের এখতিয়ারের বাইরে বাক্স্বাধীনতার জন্য হুমকি স্বরূপ। বিশ্বব্যাপী আইন ও নীতি বিরোধী।”