করোনা পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে বিরতিতে আছেন জয়া আহসান। কলকাতায়ও যাননি সেখানকার ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক হিট ও প্রশংসিত সিনেমা উপহার দেওয়া এ নায়িকা। সেই কথাটা বেশ জমিয়ে জানিয়ে দিলেন ফেইসবুকে।
জয়া ভীষণ অনুভব করছেন কলকাতার বাড়ির জানালা। যার সম্পর্কে বলছেন, “কলকাতার বাড়ির এই দীঘল চোখের জানালাটাই ছিল আমার মুক্তির দরজা।” সঙ্গে পোস্ট করেছেন কয়েকটি ছবি।
আসুন পড়ে নিই পুরো লেখাটা, “কবে আবার যোধপুর পার্কের বাড়ির এই জানালাটার পাশে গিয়ে বসব? চোখে লেগে থাকবে অস্পষ্ট ঘুমের রেখা। হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। বহুদূর পর্যন্ত আবছা হয়ে যাওয়া কলকাতার নগররেখা। ঝেপে ঝেপে বৃষ্টি এসে কখনো পর্দা টেনে দেবে প্রকৃতির।
জানালা তো যেকোনো বাড়ির চোখ। কলকাতার বাড়ির এই দীঘল চোখের জানালাটাই ছিল আমার মুক্তির দরজা। এর ভেতর দিয়ে বয়ে আসা হাওয়ার ঝাপট কোথায় উড়িয়ে নিয়ে যেত আমার ক্লান্তি, আমার অবসন্নতা। আহা, আমার মন–ভালোর জানালা!
এই জানালাগুলোর বুক অব্দি উঠে আসা গাছগুলো ছিল আমার প্রাণ। ওগুলোর জন্যই আমি লোভে পড়ে গিয়েছিলাম বাড়িটি নেওয়ার জন্য। গাছগুলোর চারপাশ ভরে থাকা পাখিগুলোই আমার নিত্য প্রতিবেশী। জানালার পাশে ওদের আপ্যায়নের জন্য খাওয়া রেখে দিতাম বলে ওদের সঙ্গে সখ্যও হয়েছিল গাঢ়। কাকও আসে প্রচুর। কী যে প্রিয় ছিল ওদের ম্যাগি নুডলস।
জানালার ওপারের দেবদারু গাছের কথাটা মনে ফিরে আসছে বারবার। একটা বড় বাজপাখি এসে বসত গাছটার ওপর। রোজ, একদম একা একা। অন্য কোনো পাখির সঙ্গে ওকে কখনো দেখিনি। আমার জন্যই ও আসে, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগত। আমার টোটেম হয়ে উঠেছিল যেন পাখিটা। দেবদারুর শিখরে বাজপাখি, এই প্রখর সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয়?
আরেক দিকের জানালায় দীর্ঘ কৃষ্ণচূড়া গাছ। ওতে মৌমাছিরা চাক বেঁধেছে। সেই মৌচাক দেখতাম শোয়ার ঘরের জানালা দিয়ে। বাঁধভাঙা সূর্যের আলোয় কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লালে ডুবে যেত প্রতিদিনের মলিনতা। আম্পানের তাণ্ডবে ডালপালা নাকি ভেঙে গেছে গাছটার। খর্ব হয়ে পড়েছে। মৌচাকটাও তো আর থাকার কথা নয়। বুকটা ভেঙে গেছে শুনে। কবে গিয়ে আবার দেখতে পাব আহত ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটা?
জানালাটা ছিল আমার ছন্নছাড়া স্বপ্নেরও এক অসম্ভব মুক্তি। দূরে বিরাট বিরাট পানির ট্যাংকি। পানির ট্যাংকি আমার ছোটবেলা থেকে প্রিয়। ওর মধ্যে কেমন যেন অজানার হাতছানি। সব সময় মনে হয়, ‘city of angels’–এর দেবদূতগুলোর মতো মরে যাওয়ার পর আমিও ওই পানির ট্যাংকের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে থাকব। কল্পনার কোন দিগন্তরে যে নিয়ে যেত আমার জানালা!
ওই অলৌকিক জানালাগুলো আমি ফিরে পাব কবে?”
সম্প্রতি কলকাতার সংগীতকার তথা জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেপরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর একটি ছবিতে জয়া আহসানের যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ছবিটির নাম ‘অসতো মা সদগময়’। ইন্দ্রদীপের ভাবনাতেই করোনা পরিস্থিতি ফ্রেমে তুলে ধরবেন জয়া আহসান ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এর আগে দুই তারকা ‘রবিবার’ নামের একটি ছবি করেন।
মানবজীবন কীভাবে করোনা আবহের কঠিন সময়ের সঙ্গে যুঝে চলেছে, সেই গল্পই ইন্দ্রদীপের হাত ধরে ফুটে উঠবে পর্দায়। জয়া-প্রসেনজিতের সঙ্গে আরও অভিনয় করবেন রুদ্রনীল ঘোষ ও অরুণ মুখোপাধ্যায়।