নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহর পরকীয়ার বলি হয়েছেন স্ত্রী শামীমা। স্বামীকে একাধিকবার পরকীয়ায় বাধা দিলেও সরে না আসায় শেষ পর্যন্ত তার সামনেই শরীরে আগুন লাগিয়ে স্ত্রী শামীমা (৩৩) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার ভোরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এর আগে ২৬ জুলাই রাতে স্বামীকে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ি থেকে ধরে এনে তার সামনেই শরীরে আগুন দেন।
নিহত শামীমা আড়াইহার উপজেলার ফাতেহপুর ইউনিয়নের দক্ষিনপাড়া গ্রামের ইমান আলী মেম্বারের ছেলে।
জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহ উপজেলার শিবপুর থানা সংলগ্ন হালিম মোক্তারের ছেলে।
তিনি স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়ায় লিপ্ত বলে নিহতের ভাই থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু দাবি করেছেন।
হাবিবুর রহমান হাবু দেশ রূপান্তরকে জানান, এর আগেও একাধিকবার পরকীয়া করায় মোহাম্মদ উল্ল্যাহকে সতর্ক করেছিলেন স্ত্রী শামীমা। এর আগেও ৩ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে স্বামীকে এ পথ থেকে ফেরাতে চান শামীমা।
সর্বশেষ ঈদের আগে ২৬ তারিখ রাতে তিনি স্বামীকে ওই নারীর ঘর থেকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে স্বামীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাতে তিনি শরীরে দুবার আগুন ধরিয়ে দেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানের ডাক্তাররা জানান, তার দেহের ৪০ শতাংশ পুরোই পুড়ে গিয়েছিল। ভোরে তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। দুর্ঘটনাবশত তার দেহে আগুন লেগে যায়। পরে আমি দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, নিহতের পরিবার কোনো অভিযোগ দেয়নি। পুলিশের ধারণা তিনি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।