জামিনের শর্ত ভেঙে নৌবিহার, বাদীকে হুমকি যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামীর!

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি জোবায়ের মনির অসুস্থতা দেখিয়ে জামিন নিয়েছেন। ঢাকায় থাকবেন এমন শর্তে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে জামিন দেয়। তবে সম্প্রতি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাড়িতে এসে নৌবিহার করেছেন তিনি। মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বাড়ির সামনে গিয়ে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার জোবায়ের মনি ঢাকা ফিরে যান বলে তার আত্মীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়।

এলাকাবাসী জানান, এই এলাকায় আর্থ-সামাজিকভাবে এককভাবে প্রভাবশালী হিসেবে এখনো প্রতিষ্ঠিত জোবায়ের মনিরের পরিবার। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষজন সবসময় তটস্থ থাকেন।

গ্রামে থাকা তার জোবায়েরর এক আত্মীয় বলেন, কাউকে ভয় দেখানোর কথা আমার জানা নেই। তিনি কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে বাড়ি এসে তার স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছেন।

জানা যায়, জোবায়ের মনির অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারবেন না এ শর্তে ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিন নেন। সেই শর্ত ভেঙে ঈদের আগের দিন শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আসেন। ঈদের দিন কোরবানী দেন। এরপর তার নিজের লোকজনকে নিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে এলাকায় ঘুরে বেড়ান। সোমবার তিনি এলাকা ছেড়েছেন যান।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর মোর্শেদ মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি জোবায়ের মনির ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন শুনেছি। খবর পেয়ে আমরা তার বাড়ি গিয়ে জানতে পারলাম তিনি সোমবার ঢাকা চলে গেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের লিখিত  পাঠাবো।

আন্তর্জাাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা রজনী দাসের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নুর হোসেন জানান, অসুস্থতাজনিত মানবিক কারণ দেখিয়ে জোবায়ের মনির জামিন নিয়েছেন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী তিনি ঢাকা শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারেন না। তিনি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। স্থানীয় পুলিশ বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। একইভাবে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালেও অবহিত করা হবে।

১৯৭১ সনের ৪ ডিসেম্বর উজানগাঁওয়ের আব্দুল খালেকের নির্দেশে পেরুয়া, উজানগাও, শ্যামারচরে ভয়াবহ গণহত্যা, অগ্নিসংযোগসহ যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়। শ্যামারচর বাজারের স্কুলের সামনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৭ ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। পরে কয়েকটি পল্লীতে প্রায় তিন শতাধিক রাজাকার বাহিনী দিয়ে নারীদের ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে।

এই গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয় জোবায়ের মনিরসহ রাজাকার বাহিনী। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ দেন পেরুয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রজনী দাস।

এরপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গণহত্যায় যুক্ত থাকা ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর জোবায়ের মনির, জাকির হোসেন, তোতা মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, আবদুল জলিল, আবদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৯ সালের ১৭ জুন রজনী দাসের করা মামলায় জোবায়ের মনিরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নুর হোসেন।