ঢাকার ধামরাই উপজেলায় পৃথক স্থানে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে দাদা-নাতনীসহ চারজনের মৃত্য হয়েছে। এ সময় আরো দুজন প্রাণে বেঁচে গেলেও এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপরে উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের মালঞ্চ গ্রাম এবং সূয়াপুর ইউনিয়নের রৌহারটেক এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের মালঞ্চ গ্রামের মৃত রকমত আলীর ছেলে হাকিম আলি (৭০) ও তার ছেলের ঘরের নাতনি মুন্নী (১১) এবং সূয়াপুর ইউনিয়নে রৌহারটেক এলাকার সাবেক মেম্বার হিরা ফকিরের দুই ভাগ্নি কলেজছাত্রী আফিয়া আক্তার (২০) ও শারমিন আক্তার (২১)।
এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্রী পন্থি আক্তার (১৫)।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ও ছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ধামরাই ও মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, এবারের বন্যায় উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় মানুষের যোগাযোগের একমাত্র বাহন এখন নৌকা। আর প্রতিদিনই কেউ না কেউ এই নৌকাযোগে যাতায়াতের সময় পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে।
ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সদস্য বদির উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসী জুলহাস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করিয়ে নাতনীকে নিয়ে নৌকাযোগে বাসায় ফিরছিলেন তার শ্বশুর হাকিম আলী। একপর্যায়ে তাদের বহনকারী নৌকাটি ঝড় বৃষ্টির কারণে উল্টে গেলে জুলহাস আলীর বাবা হাকিম আলী, সন্তান মুন্নী ও তার স্ত্রী পানিতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় বৃদ্ধ হাকিম আলী ও তার নাতনী মুন্নী মারা গেলেও পুত্রবধূকে জীবিত উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে উপজেলার সূয়াপুর ইউনিয়নের রৌহারটেক গ্রামের হিরা ফকিরের বাড়িতে নেত্রকোনা থেকে বোন-ভাগ্নি ঈদের পরদিন বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার দুপুরে তারাসহ চারজন নৌকায় করে বেড়াতে যায়। এ সময় বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে নৌকা ডুবে যায়। এতে হিরা ফকিরের ভাগ্নি কলেজছাত্রী আফিয়া আক্তার (২০) ও শারমিন আক্তার (২১) পানিতে ডুবে মারা যান।
তবে সাঁতার জানায় কাজলি বেগম (৪০) প্রাণে বেঁচে গেলেও দশম শ্রেণির ছাত্রী পন্থি আক্তার (১৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
খবর পেয়ে ধামরাই ও মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টানা ৬ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়েও নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোরহাব হোসেন জানান, সাবেক মেম্বার হিরা ফকিরের দুই ভাগ্নি ও বোনসহ চারজন নৌকা করে বেড়াতে যায়। এ ঘটনায় নৌকাডুবে ২ জন মারা গেছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা করছে।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিস অফিসের ওয়্যার হাউজ কর্মকর্তা মো. আলম হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা নিহত চারজনের লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ছাড়া নিখোঁজ একজনকে উদ্ধারের জন্য আমাদের ডুবুরি দলের কাজ করছে।
এর আগে তিন দিনে ধামরাইয়ে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু ও দুই কিশোরী মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা হলো সাত।