হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পৌঁছেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বুধবার দুপুর ১২টায় রামলালার দর্শন করে বিশেষ পূজায় যোগ দেন তিনি।
এই সময় জানায়, বৃক্ষরোপণ শেষে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হবে রাম মন্দিরের ভূমিপূজার মূল অনুষ্ঠান। এরপর ইট গেঁথে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন মোদি।
বিজেপি সরকার কর্তৃক কাশ্মীরের রাজ্য ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার বর্ষপূর্তির দিনই বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হচ্ছে।
রাম মন্দির নির্মাণ ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। দেশটির সংবাদমাধ্যম ফলাও করে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব টুইটে বলেন, ‘তিনি আশা করছেন আগামী প্রজন্ম রামের মর্যাদা মেনে চলবে। তাতেই সবার মঙ্গল হবে।’
মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ রাম মন্দির ভূমিপূজার জন্যে পাঠাচ্ছেন ১১টি রুপার ইট।
রাম মন্দিরের ভূমিপূজায় উপস্থিত প্রত্যেক অতিথির হাতে তুলে দেওয়া হবে রুপার মুদ্রা।
অবশ্য বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেওয়া এবং সেখানে রাম মন্দির নির্মাণ পরিকল্পনার মূলহোতা সাবেক বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
গত রাতে প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘এই দিন শুধুমাত্র আমার নয়, গোটা দেশের কাছে আবেগের দিন, ঐতিহাসিক দিন।’
এদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব মেনেই ভূমিপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এতে উপস্থিত থাকছেন বিজেপির মূল সংগঠন উগ্র-হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, যোগ গুরু রামদেব, রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রধান মহন্ত নৃত্যগোপাল দাস প্রমুখ।
গত বছরের ৯ নভেম্বর অবসরের আগমুহূর্তে বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। পরে তাকে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য করা হয়।
কয়েক দশক ধরে চলে আসা বিতর্কের এক পর্যায়ে ১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে। এরপর দাঙ্গায় কমবেশি ২ হাজার মানুষ নিহত হন যাদের অধিকাংশই মুসলিম।
কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, কয়েক শতকের প্রাচীন বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল। যদিও ১৮৮৯ সালের আগে তারা কখনো এমন দাবি করেনি।