জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ সংলগ্ন আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপউপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, সহকারী প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।
পুস্পস্তবক অপর্ণের পর শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন তারা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ঘৃণ্য শত্রুদের নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে তিনিও শাহাদাত বরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। ৬৯ এর গণঅভুত্থান ও ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তি বাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ কামাল অভিনয় শিল্পী হিসেবেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গণে ছিলেন সুপ্রতিষ্ঠিত। শৈশব থেকেই ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় তাঁর ছিল প্রচন্ড ভালোবাসা, আগ্রহ ও উৎসাহ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছায়ানটের সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান থেকে অনার্স পাস করা শহীদ শেখ কামাল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজ চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে মঞ্চনাটক আন্দোলনে প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালনের শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী’। ঢাকা থিয়েটারেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠা ছিলেন শহীদ শেখ কামাল।