মেয়ে ও দুলাভাইয়ের অনৈতিক কাজ দেখে ফেলায় খুন হন ছালেমা

ঈদের দিন রাতে অবিবাহিত মেয়ের সাথে  দুলাভাইয়ের অনৈতিক কাজ দেখে প্রতিবাদ করাই কাল হলো ৭ সন্তানের জননী ছালেমার। গলা কেটে হত্যা করার পর মেয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ডাকাতির ঘটনা সাজায় বলে পুলিশের তদন্তে বের হয়ে এসেছে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ।

পুলিশ সুপার আসামীদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও গ্রামের হিরণ মিয়ার স্ত্রী ছালেমা বেগম (৪৫) ৭ সন্তানের জননী। স্বামী মিলন মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করেন। ছালেমা তার মেয়ে শান্তি বেগমকে নিয়ে একই গ্রামে ভাগ্নে আব্দুর রহমানের ঘরে বসবাস করেন। তার বড় মেয়ে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে দেওয়া হয় একই গ্রামের মোগল মিয়ার কাছে। বিয়ের কিছু দিন পরই জেসমিন চলে যান সৌদিআরবে। আর তখন থেকেই মোগল মিয়া শাশুড়ির সাথে বসবাস করেন। এর মধ্যেই তিনি শালিকা শান্তি বেগমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ছালেমা বেগম তাদের একাধিকবার সতর্ক করেন।

গত ঈদুল আজহার দিন রাত দেড়টার দিকে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে অন্য ঘর থেকে এসে মোগল মিয়া শ্যালিকা শান্তির সাথে  শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ছালেমা বেগম মেয়ের ঘরে গিয়ে তাদেরকে শারিরীক মেলামেশা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে তারা ছালেমা বেগমের মুখ চেপে ধরেন। তাতেও দমাতে না পেরে মোগল মিয়া ঘরে থাকা দা দিয়ে ছালেমার গলা, বুক ও ঘারে কোপাতে থাকেন। শান্তি বেগম মায়ের পা চেপে ধরেন।  মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর  মোগল মিয়া শ্যালিকাকে বলে যান যে, তিনি চলে যাওয়ার পর যেন শান্তি বেগম চিৎকার করে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। একইসাথে ওই গ্রামের আব্দুল মুমিন ওরফে রুমান এবং নোমান উক্ত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে যেন প্রচারণা চালায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তি নিজের রক্তমাখা জামা পাল্টিয়ে ডাকাতি ও উল্লেখিত দুইজনের নাম প্রচার করে। তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসেন। পরদিন মেয়ের বক্তব্য শুনে নিহতের স্বামী মিলন মিয়া দুইজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় নবীগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু সাঈদকে। তিনি ঘরে তল্লাসী চালিয়ে মোগল মিয়া ও শান্তি বেগমের রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

মঙ্গলবার রাতে মোগল মিয়া ও শান্তি বেগম  সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।