দিনের পর দিন চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশও নিচ্ছেন, এমনকি ইন্টারভিউতেও ডাক পাচ্ছেন-কিন্তু চাকরি হচ্ছে না। এদিকে পড়াশোনা শেষ করে পার হয়ে গেছে কয়েক বছর। পরিবারের দায়িত্ব ও নিজের ভবিষ্যত চিন্তায় মানসিক চাপও তৈরি হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের তরুণদের মধ্যে একেবারেই পরিচিত।
দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারভিউতে ডাক পাচ্ছেন না, আবারইন্টারভিউতে ডাক পেলে মিলছে না চাকরি। এমনটি হবার কারণ কি? অনেকে দোষ দিয়ে থাকেন ভাগ্যকে। কিন্তু নিজের প্রস্তুতিতে ঘাটতি আছে কী না, এমনটি ভাবেন না।
আসুন জেনে নিই, চাকরি না পাবার এমন কিছু কারণ, যা আপনার প্রস্তুতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
সিভি বা অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুতি
চাকরির জন্য আবশ্যকীয় হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় সিভি বা অ্যাপ্লিকেশন, বাংলায় আমরা যাকে আবেদনপত্র বলে থাকি। এই সিভির ওপর অনেকটা নির্ভর করে আপনি চাকরি পাবার যোগ্য কী না। সিভি তৈরিতে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
১. চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সাজাতে হবে আপনার সিভি। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নিয়োগদাতা চাকরি সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা ও দক্ষতা আশা করেন। ফলে মনোযোগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি পড়ে নিয়োগদাতার প্রত্যাশা অনুসারে তৈরি করতে হবে আপনার সিভি। নয়তো তারা আপনার প্রতি আগ্রহী হবেন না।
২. আপনার সিভি হতে হবে স্মার্ট। অপ্রয়োজনীয় কোনো তথ্যে যাতে ভারি হয়ে না যায়। নিয়োগদাতার প্রত্যাশা অনুসারে প্রাসঙ্গিক তথ্যকেই গুরুত্ব দিন। ফরম্যাট ঠিক না থাকলে, দৃষ্টিকটু ডিজাইন বা লেআউট ব্যবহার করলে সিভির দিকে ফিরেও তাকান না নিয়োগদাতারা। আপনার যোগ্যতা বা চিন্তা ধারণা নিয়ে তারা আশ্বস্ত হতে পারেন না তখন। এর ফলে চাকরির পরীক্ষা বা ইন্টারভিউতে ডাক পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
৩. আপনার সিভিতে এমন কোন তথ্য দেয়া উচিত হবে না, যা সংশ্লিষ্ট চাকরির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। আপনার যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন তথ্যও দেয়া উচিত হবে না। অন্যথায় ইন্টারভিউতে সেগুলো প্রমাণিত না হলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি সেখান থেকে ঝরে যাবেন।
ইন্টারভিউ প্রস্তুতি
দেখা গেল লিখিত পরীক্ষায় আপনি বেশ ভালো করেছেন কিন্তু ইন্টারভিউতে গিয়ে নিয়োগদাতার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অনেক চাকরিতে সরাসরি ইন্টারভিউতে ডেকে নিয়োগ দেয়া হয়। যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনাকে নিয়োগদাতারা পছন্দ করলেন না। এমনটা হওয়ার কারণ কি?
ইন্টারভিউতে ভালো করার জন্য প্রয়োজন যথাযথ প্রস্ততি। অনেকে ইন্টারভিউর সময় নার্ভাস হয়ে পড়েন। জানা উত্তরও ভুলে যান কিংবা গুছিয়ে বলতে পারেন না। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোনো ধরনের ধারণা থাকে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিতে ভুলে যান অনেকে। ফলে ইন্টারভিউতে খারাপ পারফরম্যান্স হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই নিয়োগদাতার পছন্দ হবে না আপনাকে।
চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা
শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েই এখন সহজে চাকরি মেলে না। এর জন্য থাকা প্রয়োজন আনুষাঙ্গিক জ্ঞান ও দক্ষতা। অন্যান্য যোগ্যতা না থাকলে শুধু শিক্ষাগত সার্টিফিকেট দিয়ে এখন চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে পড়াশোনা চলাকালীন বা পাস করেই কিছু প্রফেশনাল কোর্স বা ট্রেনিং করে নিতে পারেন। ভাষা, প্রযুক্তি বা কারিগরি দক্ষতা আপনাকে চাকরির বাজারে এগিয়ে রাখবে। এখন অনলাইনেই বিনামূল্যে অনেক বিষয়ে কোর্স করা যায়। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অনেক কিছুর শেখার সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার বা ইনস্টিটিউটে যোগাযোগ করতে পারেন।
চাকরি নিয়ে লক্ষ্য স্থির করা
অনেকে জানেন না, কোন পেশা তার জন্য অধিক উপযোগী। গড়পরতা সব চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। যেকোনো একটা চাকরি পেলেই হবে-এমন মানসিকতা চাকরির প্রস্তুতিতে গতি ও একাগ্রতা তৈরি করে না। নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে প্রস্তুতি নিতে থাকলে ক্যারিয়ার গঠনে সহজ হয়ে যায়। নয়ত একের পর এক সিভি পাঠিয়ে শুধু ক্লান্তিই বাড়তে থাকে, অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না।
সরকারি চাকরির প্রতি মোহ
অনেকে শুধু সরকারি চাকরির পেছনে লেগে থেকে অনেকগুলো বছর নষ্ট করে। কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েও এর পিছু ছাড়ে না। আয়, সম্মান, সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য সরকারি চাকরি স্বাভাবিকভাবেই যে কারও জন্য প্রত্যাশার। কিন্তু বিসিএস বা অন্যান্য সরকারি চাকরির নামে সোনার হরিণের পেছনে দৌড়তে দৌড়তে কোনোভাবেই চাকরির বয়স ক্ষয় করে ফেলা যাবে না। এতে বেসরকারি পর্যায়ে ভাল চাকরিও আপনাকে হারাতে হবে।