‘ভ্যাকসিন মজুদ করে করোনামুক্ত হবে না ধনী দেশগুলো’

‘ভ্যাকসিন জাতীয়করণের’ বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, দরিদ্র দেশগুলোকে মহামারীর জন্য উন্মুক্ত রেখে ধনী দেশগুলো নিজেদের জন্য ভ্যাকসিন সংরক্ষিত রেখে করোনাভাইরাস মুক্ত নিরাপদ স্বর্গে পরিণত হবে না।

বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি বলেন,করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর উৎপাদিত যে কোনো ভ্যাকসিন বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমেই ভাইরাস মোকাবেলায় ধনী দেশগুলোর স্বার্থ নিশ্চিত হবে।

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসপেন সিকিউরিটি ফোরামে রাখা বক্তব্যে তেদ্রোস বলেন, ‘ভ্যাকসিন জাতীয়করণ ভালো নয়, এটি আমাদের জন্য সহায়ক হবে না।’

তিনি বলেন, ‘করোনা থেকে বিশ্বকে দ্রুত মুক্ত করতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ এখন এটি বৈশ্বিক, অর্থনীতি আন্তঃসম্পর্কযুক্ত। বিশ্বের কোনো অংশ অথবা কিছু দেশ করোনামুক্ত, নিরাপদ স্বর্গ হতে পারে না।’

‘কভিড-১৯ এর কারণে ক্ষয়ক্ষতি তখনই কম হবে,যখন ধনী দেশগুলো এ খাতে বিনিযোগ করবে’ যোগ করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।

জানা গেছে, কভিড -১৯ মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরণের ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ২৬টি ভ্যাকসিন হিউম্যান টেস্টে আছে, এর মধ্যে ৬টি টেস্টের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের প্রধান মিশেল রায়ান বলেন, ‘তৃতীয় ধাপে পৌঁছানো মানে এখানেই শেষ নয়। তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর মানে সাধারণ লোক অথবা স্বাস্থ্যবান লোকদের মধ্যে প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগ এবং এটা দেখা যে ভ্যাকসিনটি সংক্রমনের বিরুদ্ধে লোকদের সুরক্ষা দেয় কি-না সেটা যাচাই করা।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পক্ষ থেকে আমরা কিছু ভালো ভ্যাকসিন পেয়েছি, ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এসব ভ্যাকসিন ইমিউনিটি সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

তিনি বলেন, যদিও এই ছয়টি ভ্যাকসিনের কোনো একটি আমাদের নিশ্চিত সুরক্ষা দেবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য আমাদের আরও ভ্যাকসিন প্রয়োজন।

গত ডিসেম্বরে চীন থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরে এ পর্যন্ত বিশ্বে মোট ৭ লাখ ১৭ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। আর ১ কোটি ৯২ লাখ আক্রান্ত হয়েছে।