নবম-দশম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

‘জীবন সঙ্গীত’

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

সাধনা ও পরিশ্রম ছাড়া জগতে কোনো উন্নতি হয় না। কপালের জোরে লাখ টাকা পাবে এ কথা কখনো বিশ্বাস করো না। যেকোনো কাজই করো না কেন, সম্যক পারদর্শিতা লাভ করতে হলে বহু বছর সাধনা করতে হয়।

            ক. কবি জীবকে কী করতে বলেছেন?

            খ. ‘বৃথা জন্ম এ সংসারে’ কবি এ কথাটি বলেছেন কেন?

            গ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তুটি ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতায় কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা তুলে ধরো।

            ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয় ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতার একমাত্র আলোচ্য বিষয় নয় বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক.         কবি জীবকে আকিঞ্চন করতে বলেছেন।

খ.         কবি কল্পনাপ্রবণ মানুষের উদ্দেশ্য এ কথাটি বলেছেন। পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা নৈরাশ্যবাদে বিশ্বাস করে। এরা সংসারের কোনো দায়িত্ব পালন না করে আকাশকুসুম কল্পনায় নিজের জীবন অতিবাহিত করে। কল্পনা অনুযায়ী যখন প্রাপ্তির খাতা শূন্য দেখে, তখন তারা হতাশায় জীবনকে বৃথা মনে করে। তাই কবি উক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

গ.         উদ্দীপকের সঙ্গে ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো সাধনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনের উন্নতি করা। জীবন অলীক কল্পনাপ্রসূত নয়। কল্পনা ও অদৃষ্টের ওপর ভরসা করে বসে থেকে নিজের উন্নতি করা যায় না। কারণ মানুষের জীবন অনেক সম্ভাবনাময়, তাকে যতœ করলে অর্থপূর্ণ করা যায়। মানুষের জন্য কাজ করে পৃথিবীকে নতুনভাবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জীবন অর্থপূর্ণ করা যায়। মহৎ ব্যক্তিরা পৃথিবীর কল্যাণের জন্য কাজ করেই স্মরণীয় হয়ে আছেন। ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতায় পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিরা সাধনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি ভবের যে উন্নতি করেছেন, তা চিত্রিত হয়েছে। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণে পৃথিবী বহুদূর এগিয়ে গেছে। তারা কল্পনা ও ভাগ্যের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে বরং সাধনা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের উন্নতি করেছেন। উদ্দীপকেও একই বিষয় চিত্রিত হয়েছে।

ঘ.         উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়টি ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতার একমাত্র আলোচিত বিষয় নয়। মানুষকে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যেতে হয়। জীবন নিছক ছেলেখেলা নয়। তাই জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে হলে পরিশ্রম ও সাধনা করতে হয়। বাহ্যিক চাকচিক্য, মায়া, ছলনা মানব জীবনের উন্নতির পথে বাধা। মানব জীবন ক্ষণস্থায়ী। এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতন সবই থাকে। বেদনার ভয়ে বীতশ্রদ্ধ হলে চলে না। আবার অতীত সুখকে বর্তমানে ডেকে এনে সময় অতিবাহিত করা জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। উদ্দীপকে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করার ইঙ্গিত রয়েছে। ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সার্থক করতে হলে মানুষকে পরিশ্রমী, সংযমী ও ধৈর্যশীল হতে হয়। কপালের জোরে কেউ বড় হতে পারে না। কোনো কাজকে ছোট মনে না করে পারদর্শিতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হয়। এই বিষয়টি ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতার প্রতিফলিত জীবনে সফলতা অর্জনের করণীয় কর্মের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতায় কবি ভবের উন্নতির জন্য বিভিন্ন চেষ্টা ও সংগ্রামের কথা বলেছেন। তিনি জীবনে চলার পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বলেছেন। তাহলেই জীবন সার্থক হবে। এদিকগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এসব দিক বিচার-বিবেচনা করে করে বলা যায়, উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয় ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতার একমাত্র আলোচ্য বিষয় নয়।