সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তথ্যভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন, উদ্দীপক ও পাঠবইয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারাই সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার নিয়মকানুন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহিব্বুল্লাহ ইমদাদ

প্রশ্নের স্তর : সাধারণত সৃজনশীল প্রশ্নে একটি উদ্দীপক দেওয়া থাকে। উদ্দীপকের আলোকে চার স্তরের প্রশ্ন থাকে। জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক। পরীক্ষার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর সঠিক সময়ে দিতে পারা। তাই উত্তর লেখা শুরু করার আগেই সময় ভাগ করে নিতে হবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্ন ২০ মিনিটের মধ্যে লিখতে পারলেই নির্ধারিত সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন : প্রশ্নটি সাধারণত বই থেকেই আসে। এর সঙ্গে উদ্দীপকের মিল থাকে না বললেই চলে। তাই উত্তর হতে হবে বইয়ে যেমন আছে, তেমনই। উত্তর এক লাইনে শেষ করাই উত্তম।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : প্রশ্নটি কখনো বই থেকে, কখনো উদ্দীপক থেকে আসে। এ প্রশ্নের উত্তর দুই প্যারা করে লেখা উত্তম। প্রথম প্যারায় প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু জ্ঞানমূলক উত্তর দেওয়া যায়। দ্বিতীয় প্যারায় উদ্দীপকের আলোকে মূল উত্তর গুছিয়ে লিখতে হবে। উত্তর যাতে অনুধাবনের ধাঁচে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রয়োগমূলক প্রশ্ন : সৃজনশীল পদ্ধতির মূল প্রশ্ন এটি। উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের মধ্যে এর মাধ্যমে যোগসূত্র তৈরি হয়। এটি তিন প্যারায় লেখা উত্তম। প্রথম প্যারায় উদ্দীপকের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের সম্পর্ক বর্ণনা, দ্বিতীয় প্যারায় মূল উত্তরটি গুছিয়ে লেখা এবং তৃতীয় প্যারায় সংক্ষিপ্ত একটি উপসংহার টানার কাজ সারতে হবে।

উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন : এটি প্রয়োগমূলক প্রশ্নের প্রায় কাছাকাছি। তবে এখানে সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ের বিশ্লেষণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরতে বলা হয়। এটি চার প্যারায় লেখা ভালো। প্রথম তিন প্যারা প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরের মতোই। চতুর্থ প্যারায় যুক্তিতর্ক, বিশ্লেষণ ও নিজের মতামত দিয়ে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।