বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা: ওবায়দুল কাদের

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই ছিলেন না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা।

শনিবার সংসদ ভবনের বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এদিন ছিল শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে শুধু বাঙালির জাতির পিতা আর বাংলাদেশের স্রষ্টাই হননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

তিনি বলেন, বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সঙ্গে বিশ্বের আরেক খ্যাতিমান নারী এলিনর রুজভেল্টের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে, এলিনর রুজভেল্ট যুক্তরাষ্ট্রের চারবার নির্বাচিত ও দীর্ঘকালীন সময়ের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের স্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম মুজিব আর এলিনর রুজভেল্ট দুজনেই শৈশবে তাদের বাবা - মাকে হারিয়েছিলেন, দুজনেই তাদের চাচাতো ভাইকে বিয়ে করেছিলেন আর দুজনেই তাদের স্বামীর রাজনীতিতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, তবে তাদের দুজনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একটা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছিলেন, আর এলিনর রুজভেল্টের  তা হয়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক অর্থাৎ ৭ই মার্চের ভাষণের আগ মুহূর্তে বঙ্গমাতাই জাতির পিতাকে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী মহীয়সী নারী, দেশের স্বাধীনতাসহ সকল গৌরব অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা মুজিব।

দিবসটি উপলক্ষে এর আগে সকালে বঙ্গবন্ধুর পত্নীর জন্মদিনে দলের পক্ষ থেকে বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দোয়া ও মোনাজাত হয়। এরপর দলের সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সমাধিতে।