স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে ডাকা মানববন্ধনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সিফাতের নিজ এলাকা বরগুনার বামনা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের সময় সিফাত ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মানববন্ধনে লাঠিচার্জের কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে বামনা থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, অনুমতি ছাড়া একদল দুষ্কৃতকারী মানববন্ধন করছে খবর পাই। পরে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার দুপুর ১২টায় মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করেন সিফাতের সহপাঠী ও স্থানীয়রা। বামনার কলেজ রোড সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে চলা মানববন্ধনে হঠাৎ পুলিশের একটি টিম এসে ব্যানার-ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এরপরই বামনা থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন ঘটনাস্থলে এসেই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের গালমন্দ শুরু করে লাঠিচার্জের নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মুহূর্তেই শান্তিপূর্ণভাবে চলা মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়। লাঠিচার্জ করেন ওসি নিজেও। লাঠিচার্জে আহত রুবেল বলেন, ‘সিফাত অত্যন্ত ভালো ছেলে। আর যাই হোকÑ সিফাতের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ কোনোভাবেই মানা যায় না। এ ছাড়াও মিথ্যে মামলায় নির্দোষ সিফাত জেলে থাকায় ওর মুক্তির জন্য আমরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। প্রথমে পুলিশ ব্যানার-ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এরপরও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। পরে ওসি এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে।’
এদিকে নাতির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে আসায় সাংবাদিকদের সামনে সিফাতের নানা বামনা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আইউব আলী হাওলাদারকে গালমন্দ করার পাশাপাশি হুমকিও দিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, দুই ভাই-বোনের মধ্যে সিফাত বড়। ১০ বছর আগে সিফাতের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। মা শিরীন আক্তার শিলা যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আর বাবা মো. মোস্তফা থাকেন ঢাকায়। সিফাতের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বামনা উপজেলার পশ্চিম সফিপুর গ্রামের নানাবাড়িতে। ২০১৬ সালে সে ভর্তি হয় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে। ভর্তির পর খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করত সিফাত। বছরে দু-চারবার বামনা এলেও সারাক্ষণ থাকত ক্যামেরা আর ট্রাইপড নিয়ে। ছবি তোলার নেশায় ঘুরে বেড়াত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। শৈশবে বাবা-মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসা বঞ্চিত হলেও কখনো সিফাত বিপথগামী হয়নি বলেও জানায় তারা।