ন্যায্য বেতনের দাবিতে যুক্তরাজ্যে নার্সদের বিক্ষোভ

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার সার্ভিসের (এনএইচএস) নার্সরা ন্যায্য বেতন ও কাজের সত্যিকারের স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

শনিবার যুক্তরাজ্য জুড়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আয়োজিত ৩০টির বেশি বিক্ষোভে কয়েক হাজার নার্স অংশগ্রহণ করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন এনএইচএসের অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীও।

চলমান মহামারির সময়ে দায়িত্ব পালনের জন্য গত মাসে এনএইচএসের চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য সরকার। কিন্তু তাতে নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের জন্ম নেয়।

সেন্ট্রাল লন্ডনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন নার্স হলেন ড্যাব কার। সেন্ট টমাস হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের নার্স তিনি। এই হাসপাতালেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ডেব কার জানান, করোনা মহামারির মধ্যেও দায়িত্বপালন করে যাওয়াটা ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন বিষয়। এই সময়েও বেতন না বাড়ানোয় ‘রাগ’ লাগছে তার।

“আমাদের আশপাশের সহকর্মীসহ অনেকে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, আর দায়িত্ব পালন করে যেতে পারব না।...তারা ৯ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়িয়েছে। এটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তারা আমাদের খাট করে দেখছে। বিষয়টা নিয়ে আমি খুবই ক্ষুব্ধ।”

ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে একটি মিছিলে ব্যানারে লেখা ছিল- “এনএইচএসের বেতন বৈষম্য শেষ করুন, আমরা সবাই মিলেই জিতব।”

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে বিক্ষোভকারীদের এই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়- “বরিস জনসন আমাদের চিৎকার শুনতে পারছেন। আমাদের যথাযথ বেতন দিন অথবা বের হয়ে যান।”

গ্লাসগো সিটি সেন্টারের দিকে একটি মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের এই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়- “কভিড হিরো, বেতন বৃদ্ধি জিরো”; “আপনাকে কে সেবা দিয়েছিল বরিস?”