গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর খোলাহাটী গ্রামে যৌতুকের বলি কলেজছাত্রী ও গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সেতু হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের কাউন্সিলের বাজারে এসব কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবকসহ সহস্রাধিক এলাকাবাসী।
প্রথমে গিদারী ইউনিয়নের কাউন্সিলের বাজারে মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধরা। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন নিহত সেতুর বাবা শাহিন মিয়া, মা রওশন আরা বেগম, খালা হাসিনা বেগম, গিদারীর রহমান নগর কারিগরী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক, সহকারী শিক্ষক মো. আবু হানজালার, এলাকাবাসীর পক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুহম্মদ সাদ্দাম হোসাইন, নজরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, এরশাদ মিয়া, ফেরদৌস আহম্মেদ সজিব, রায়হান মিয়া ও রাশেদ সরকার রাসেল।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, প্রায় এক বছর আগে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গিদারী গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার সেতুর (১৯) সঙ্গে একই উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের উত্তর খোলাহাটী গ্রামের রওশন আলমের ছেলে সুজন মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়।
বিয়েতে নগদ টাকা যৌতুকসহ কয়েক লাখ টাকার ঘরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও দেন বাবা শাহিন মিয়া। এরপরও আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন সুজন। চাহিদামতো এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেতুর উপর নেমে আসে শারীরিক ও অমানসিক নির্যাতন। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাতে উত্তর খোলাহাটীতে স্বামী সুজন ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৬ জন সেতুকে শ্বাসরোধ ও মারধর করে হত্যা করেন। হত্যার চারদিন পেরিয়ে গেলেও শ্বশুর রওশন আলম ছাড়া মূল আসামি সুজন মিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাইবান্ধা-গিদারী-কামারজানী সড়ক অবরোধ করে। এসময় সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়। সড়ক অবরোধ করে হত্যাকারী সুজনকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।