সড়ক দুর্ঘটনায় পর্বতারোহী রেশমা নাহার রত্না নিহতের ঘটনায় বিচার দাবি করে রবিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় রাজধানীতে সাইকেল লেন চালুসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), গ্রীনফোর্স, ডাবিঊবিবি ট্রাস্ট, বানিপা, বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন, ঢাকা সাইক্লিং ক্লাব, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ, সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ গারো আদিবাসী লীগ, বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং ফেডারেশন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, নোঙরসহ সমমনা সংগঠন এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, রেশমা পৃথিবীর দুর্গম পর্বত জয় করে ফিরে আসলেও ঢাকা শহরের বিপদজ্জনক রাস্তা তার জীবন ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ সড়কে প্রাণ হারাচ্ছেন। নৌপথ, রেলপথেও হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন। ফলে যাতায়াতে নিরাপত্তা নিয়ে সবাই শঙ্কিত। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়া হয় প্রাইভেট কারের সুবিধার দিকে নজর রেখে। অথচ প্রয়োজন ছিল ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা, যাত্রীবান্ধব বাস।
তারা বলেন, পর্যাপ্ত বাসের অভাবে এবং পরিবহনে মাফিয়া চক্রের কারণে দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমছে না।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে, রেশমা নাহার রত্না হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, রাজপথে সাইকেলের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা, আইন অনুসারে পথচারীর অগ্রাধিকার নীতির বাস্তবায়ন, গভীর রাতে ও ভোররাতে বেপরোয়া গতির গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পর্যাপ্ত বড় বাস চালু।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হর্কাস ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম, পবার সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন সুমন, পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার, বানিপার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, নোঙর এর সভাপতি শামস সুমন, বাংলাদেশ মাউন্টেনিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অপার আহমেদ, নদী বাচাঁও আন্দোলনের সদস্য সচিব শাকিল রহমান, জাতীয় ক্রীড়াবিদ সুলতানা মৌসুমী প্রমুখ।
শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেকরোডে সাইক্লিং করার সময় রত্নাকে একটি মাইক্রোবাস চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে রত্নাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।