সাত বছর আগে বন্ধ ঘোষণা করা হয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খুলনা মহসেন জুট মিলস লিমিটেড। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ দীর্ঘদিনেও তিন শতাধিক শ্রমিকের পাওনা দেয়নি। ফলে অর্থাভাবে এসব শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ বকেয়া পরিশোধে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রক্ষা করছে না। উল্টো এখন মিলের জমি বিক্রির চেষ্টা করছে। তবে মালিকপক্ষের দাবি, কোনো শ্রমিকের মজুরি বকেয়া নেই। তারা গ্র্যাচুইটি ও পিএফের টাকা পাবে। মিলের জমি বিক্রি করে পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৬৮ সালে খুলনার শিরোমনি এলাকায় মহসেন জুট মিলস লিমিটেড গড়ে ওঠে। ১৯৭২ সালে জাতীয়করণের পর এটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে পরিচালনা শুরু হয়। ১৯৮২ সালে তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে ফের সৈয়দ মহসেন আলী মিলের মালিকানা নেন। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় পরে পরিচালনার দায়িত্ব পান তার ভাগ্নে খোরশেদ আলম। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি ২০১৩ সালের ২৩ জুন লে-অফ এবং এর ৩৯০ দিন পর ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে মিল বন্ধ ঘোষণা করেন। সে সময় মিল কর্র্তৃপক্ষ শ্রম আইন-২০০৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, ৬৩১ শ্রমিক ও ৩৬ কর্মচারীকে ছাঁটাই করে। অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে ছাঁটাই শ্রমিক-কর্মচারীকে ক্ষতিপূরণ/লে-অফ বেনিফিট/গ্র্যাচুইটির পাওনাদি পর্যায়ক্রমে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
শ্রমিকরা জানান, মিল বন্ধের পর মালিকপক্ষ বিভিন্ন সময়ে ৩৪৪ জন বদলি ও দুই শতাধিক স্থায়ী শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করে। কিন্তু সাত বছর পার হলেও প্রায় ১০ কোটি টাকা বকেয়া পাননি তিন শতাধিক শ্রমিক। এদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে ৬৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মিলের যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আগেই বিক্রি করেছে কর্র্তৃপক্ষ। এখন জমি বিক্রির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের আশঙ্কা, সবকিছু বিক্রি হয়ে গেলে বকেয়া পাওনা বঞ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যে পাওনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
প্রবীণ শ্রমিক মো. এরশাদ আলী বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগে ৬ হাজার টাকা করে এবং পরবর্তী সময়ে এক মাসের মধ্যে সবার পাওনাদি পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আজও তা দেওয়া হয়নি। ফলে শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে।’ মিল সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল খান বলেন, ‘সাত বছরেও আমরা বকেয়া পাইনি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শোকে-দুঃখে ৬৫ সহকর্মী মারা গেছে। বাকিরাও খুব কষ্টে আছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব। এজন্য আমরা তার কাছে পাওনা চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি।’