তুর্কি ড্রোন হামলায় দুই ইরাকি কমান্ডারের মৃত্যু

তুরস্কের ভয়ানক এক ড্রোন হামলায় ইরাকে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের দুজন অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। আক্রমণ চালানোর স্থানটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছিল আঙ্কারা।

ইরাকের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার তুরস্কের ওই ড্রোন হামলায় তাদের বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের দুজন কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন।

উত্তর ইরাকের সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি- পিকেকে’র বিরুদ্ধে জুনের মাঝামাঝিতে স্থলপথ ও আকাশ পথে তুরস্ক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম ইরাকি বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

এই ঘটনায় ইরাক ও তুরস্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ইরাকের মাটিতে এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাগদাদে তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

উত্তর ইরাকের আরবিল প্রদেশের সিকাদান নগরের মেয়র ইহসান ছালাবি এএফপিকে জানান, তুরস্কের ড্রোন হামলার সময় ইরাকের বর্ডার গার্ডের কমান্ডাররা পিকেকে যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দিনের শুরুতে ড্রোন হামলাটি ঘটে। এ সময় পিকেকে এবং ইরাকিবাহিনী জরুরি বৈঠক করছিল।

তুরস্কের এই ধৃষ্টতার  তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট অফিস। এ ঘটনাকে ‘ইরাকি সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলে ‘সকল ধরনের অভিযান’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরাক।

জুনের মাঝামাঝিতে উত্তর ইরাক এলাকায় অপারেশন শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আর আঙ্কারা জানিয়েছে, এই অপারেশনে এখন পর্যন্ত তাদের দুজন সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। পিকেকে ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো জানিয়েছে তাদের ১০ জন যোদ্ধা ও সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে।

তুরস্কের দৃষ্টিতে পিকেকে কালো তালিকাভুক্ত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। কিন্তু পশ্চিমাদের ছত্র ছায়ায় ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে কুর্দিরা।