সাবেক স্ত্রীর প্রতি টানের কারণে বিবাদ থেকে ২০১১ সালে রাজধানীর সবুজবাগের সুজন হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইর তদন্তে উঠে এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শেখ আলমগীর (বাবু) ওরফে কালা নামে আরও এক আসামিকে গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে রাজধানীর মুগদা থানাধীন জান্নাতবাগ এলাকা থেকে একই মামলার অন্যতম আসামি মো. ফজলু ওরফে কুটিকে (৪২) গ্রেপ্তার করে সংস্থাটি।
২০১১ সালের ১৪ মার্চ মো. আবদুল মান্নানের মেজ ছেলে সুজন তার বন্ধু কুটির সঙ্গে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এরপর থেকে মান্নান নিখোঁজ ছেলের খোঁজ করতে থাকেন। এরপর ১৮ মার্চ দুপুরে সবুজবাগ থানাধীন দক্ষিণ রাজারবাগ বাগপাড়া এলাকায় খালের কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান থাকা সুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সবুজবাগ থানায় মামলা করে সুজনের পরিবার। মামলাটি প্রথমে সবুজবাগ থানা পুলিশ ও পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কর্র্তৃক দীর্ঘ প্রায় সাত বছর তদন্ত করলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হয়নি। অবশেষে ঘটনার নয় বছর পর পিবিআই এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করার কথা জানিয়েছে। পিবিআইর ভাষ্য, স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের পরও তার প্রতি টান থেকে শুরু হয় বিবাদ। এর জের ধরে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় সুজনকে। খুনে অংশ নেয় সাবেক স্ত্রীর প্রেমিকও।
গতকাল বৃহস্পতিবার পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওসমান গণি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজন গ্রিলের মিস্ত্রি ছিলেন। সুজনের বাবা আবদুল মান্নান বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় করা মামলাটি প্রথমে সবুজবাগ থানা পুলিশ ও পরবর্তী সময়ে ডিবি ডিএমপি কর্র্তৃক দীর্ঘ প্রায় সাত বছর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবুও ঘটনার রহস্য ও ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, মো. আরিফুল হক ওরফে আরিফ ওরফে মো. রানা ওরফে বাবু গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভিকটিমের বাবা নারাজি আবেদন করেন। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। পরে মামলাটির তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গণির নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডের রহস্য প্রকাশ পায়। পিবিআইর একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে সুজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মো. ফজলু ওরফে কুটিকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে আসামি ইভা, আরিফ ও বাবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে আসামি আরিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে সহযোগী আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।