পটুয়াখালীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা নেই

ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীতে ইলিশের দেখা নেই। সাগরে জাল ফেলে হতাশ উপকূলের অর্ধ-লক্ষাধিক জেলে-ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, ধার-দেনা করে ইলিশ মৌসুমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু এবার এখনো আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পথে বসতে হবে। তবে জেলা মৎস্য বিভাগের দাবি, এখন যথেষ্ট ইলিশ ধরা পড়ছে। দামও ভালো। কয়েক দিন পরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চিংড়িসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজননের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন, ইলিশ প্রজননের জন্য ৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনসহ মোট ৮৭ দিন জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন। সব মিলে বছরের অর্ধেক সময় উপকূলের জেলেদের ঘরে বেকার সময় কাটে। এ সময় তারা জাল বুনে এবং নৌকা-ট্রলার মেরামত করে পার করেন। এবার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার জেলেরা গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমান। ইলিশ শিকার ঘিরে প্রতি বছর জমজমাট থাকে দখিনের বৃহৎ মাছের মোকাম আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটা। কিন্তু এবার সাগরে ইলিশের খরায় মোকামেও ভাটা। যেসব ইলিশ বাজারে আসছে, তারও কাক্সিক্ষত দাম মিলছে না।

আলীপুর ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সাবেক সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, ‘আমরা সব সময় ইলিশ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে, বিক্রি করে দায়-দেনা দেব। পরিবার নিয়ে সুখে থাকব। কিন্তু এবার আমরা সাগরে জাল ফেলে হতাশ হচ্ছি।’ মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, ‘গভীর সাগরে লম্বা লাল জালে ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু এ অঞ্চলের বেশির ভাগের এই জাল নেই। ফলে মাছও খুব কম ধরা পড়ছে।’

আলীপুর-কুয়াকাটা ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া ইলিশে ধার-দেনার টাকাও উঠবে না। হতাশ জেলেরা অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়বেন। ফলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।’ তবে পটুয়াখালী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখন জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারও ভালো। কয়েক দিন পরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।’