করোনাভাইরাসের মহামারীতে ভারতে ডাক্তারদের মৃত্যু আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে দেশটির চিকিৎসকদের একটি সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা চিঠিতে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ ডাক্তার করোনায় প্রাণ হারিয়েছে। ফলে মহামারীর মধ্যে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয় ওই চিঠিতে। করোনাভাইরাসের মহামারীতে মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ মৃতের দেশে পরিণত হয়েছে দেশটি। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মোট ৪৮ হাজার ৪০ জনের মৃত্যু হলো। ফলে এ সংখ্যায় এখন তাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা তিনটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকো। এদিন নতুন করে ৬৪ হাজার ৫৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় ভারতে মোট শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯০ জনে।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভারতে ডাক্তারদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় গত ৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দেয় আইএমএ। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের লেখা চিঠিতে বলা হয়, ‘কভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং মৃত্যু হওয়া ডাক্তারদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই জেনারেল প্র্যাকটিশনার।’ ভারতীয় ডাক্তারদের সংগঠন আইএমএ বলছে, ৭ আগস্ট পর্যন্ত করোনায় প্রাণ হারানো ডাক্তারদের সংখ্যা ১৯৬ জন। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে ৪৩, পশ্চিমাঞ্চলীয় মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে ২৩ জন করে ডাক্তারের মৃত্যু হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো আইএমএর চিঠিতে বলা হয়, ‘কভিড-১৯ সরকারি-বেসরকারি ডাক্তারদের মধ্যে বৈষম্য করছে না আর অনেক জেনারেল প্র্যাকটিশনার করোনায় মারা যাচ্ছে কারণ নিয়মিতভাবে তাদের কাছে মানুষ জ¦র ও অন্যান্য লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে আসে।’ ওই চিঠিতে লেখা হয়, ‘ডাক্তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভর্তি করতে হাসপাতালের শয্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিরক্তিকর খবরও আসছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধেরও অভাব রয়েছে। কভিড-১৯-এ ডাক্তারদের মৃত্যু আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’ ডাক্তার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় আইএমএ।