নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে ভোটাভুটিতে ‘ধরাশায়ী’ যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর যে প্রস্তাব করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

নিরাপত্তা পরিষদে শুক্রবারের ভোটে ওয়াশিংটন শুধুমাত্র ডমিনিকান রিপাবলিকের ভোট পেয়েছে! ১৫ সদস্যের মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি এবং ব্রিটেনসহ ১১টি দেশ ভোট দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখে।

প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করছে রাশিয়া এবং চীন।

কমপক্ষে ৯টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে সায় না দিলে ভেটো প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না।

ইরান ও প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে হওয়া ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অধীনে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হচ্ছে।

নিজেদের পরাজয়ের কথা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের এমন কর্মকাণ্ড অমার্জনীয়।’

চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন মনে করছেন, এই ভোট আবার দেখিয়ে দিয়েছে একতরফা সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো সমর্থন নেই। অন্যকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু চুক্তির আওতায় ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করার হুমকি দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী ইরান চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত না মানলে জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা আবার চালু করার বিধান রাখা হয়েছে।

ওয়াশিংটন এমন উদ্যোগ নিলে গোটা পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি থেকে সরে আসার পর সে দেশের ‘স্ন্যাপব্যাক' প্রক্রিয়া চালু করার অধিকারই আর নেই। ফলে এই মুহূর্তে ইরান ছাড়াও রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

কিন্তু জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত কেলি ক্রাফট  শুক্রবার বিবৃতিতে বলেছেন, স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরুর ‘অনেক অধিকার’ তাদের আছে।