বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার চুরির অভিযোগে যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবির) ৪৯টি কম্পিউটার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পলাশ শরীফকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জাহেদ মাহমুদ বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বশেমুরবিপ্রবির ৪৯টি কম্পিউটার চুরির বিষয়ে সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি পলাশ শরিফের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষিতে সভাপতি পদ থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে তাকে বিরত থাকার আদেশ দেওয়া হলো।

এদিকে কম্পিউটার চুরির ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ও শনিবার  বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে। শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর হোটেল ক্রিস্টাল ইন-এ অভিযান চালিয়ে ৩৪ কম্পিউটার উদ্ধার ও দুজনকে আটক করে বনানী থানা-পুলিশ। আটক সাতজন হলেন- গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুরের বিল্লাল শরীফের ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রসাশন বিভাগের শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনি শরীফ (২৩), কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার ইন্দ্রাকচর এলাকার মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে মো. দুলাল মিয়া (৪৫), ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার চোরখাই এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. হুমায়ুন কবির (২৪), গোপালগঞ্জের বরফা শেখ পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে আ. রহমান সৌরভ শেখ (১৯), বরফা মধ্যপাড়ার আইয়ুব শেখের ছেলে হাসিবুর রহমান শান্ত ওরফে কাকন (১৯), বরফার কামাল পাশা মিনার ছেলে নাইম উদ্দিন, মাদারীপুরের রাজৈর থানার বিশমপুরদী এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে নাজমুল হাসান (১৯)।

গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা পলাশ শরীফ পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, ঈদের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হয়। এ বিষয়ে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।